দেশজুড়ে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই একের পর এক চুরি ও কালোবাজারির ঘটনা সামনে আসছে। দিল্লি, গুজরাট এবং মহারাষ্ট্র—তিনটি ভিন্ন প্রান্তের ঘটনা মিলিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে যে চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
2
8
দিল্লির জামিয়া নগর এলাকায় বেআইনি এলপিজি সরবরাহ চক্রের পর্দাফাঁস করেছে পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে মোট ৬২টি গ্যাস সিলিন্ডার, যার মধ্যে ৪৮টি ভরা এবং ১৪টি খালি।
3
8
গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৮ বছরের শাহনওয়াজকে। পুলিশ জানিয়েছে, নিয়মিত টহলদারির সময় একটি টাটা এস গাড়িতে সিলিন্ডার বহন করার সময় তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেননি।
4
8
তদন্তে জানা গেছে, উত্তরপ্রদেশের মিরাট থেকে সিলিন্ডার এনে দিল্লিতে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। গ্রেপ্তারের আগের দিনই প্রায় ৭০টি সিলিন্ডার বিক্রি করেছে অভিযুক্ত। এই চক্রে আরও এক ব্যক্তি, গাড়ির মালিক মুকেশের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং প্রয়োজনীয় ধারায় মামলা দায়ের করেছে।
5
8
অন্যদিকে, গুজরাটের ভাদিনার বন্দরে পৌঁছেছে ‘নন্দা দেবী’ নামের একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার, যা কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল জানিয়েছে যে দেশে এলপিজির সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রাহকদের অযথা আগাম বুকিং না করার অনুরোধ করা হচ্ছে, কারণ তাতে সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে।
6
8
এদিকে মহারাষ্ট্রের জলনায় বড়সড় চুরির ঘটনা ঘটেছে। আনন্দ গ্যাস এজেন্সির গুদাম থেকে মোট ১১০টি সিলিন্ডার চুরি হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬টি গৃহস্থালি, ১২টি বাণিজ্যিক এবং ২টি ছোট ৫ কেজির সিলিন্ডার রয়েছে। চুরি হওয়া সিলিন্ডারের মোট মূল্য প্রায় ৪.৫১ লক্ষ টাকা বলে জানা গেছে।
7
8
পুলিশ জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে গুদাম বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা এই চুরি চালায়। ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
8
8
সব মিলিয়ে, সরবরাহ নিয়ে সরকারি আশ্বাস থাকলেও, চুরি ও কালোবাজারির এই ধারাবাহিক ঘটনা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।