প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তির জগৎ। আজকাল জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ, সবেতেই প্রযুক্তির দখলদারি। একদিকে গোটা পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে ডিজিটাল মাধ্যম, অন্যদিকে নিত্যনতুন আবিষ্কার আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে করে তুলছে আরও সহজ ও আধুনিক। আগে যে কাজগুলো করতে অনেক সময় ও পরিশ্রম লাগত, এখন আধুনিক গ্যাজেটের সাহায্যে সেগুলো মুহূর্তের মধ্যেই করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে প্রযুক্তির প্রভাব আরও বাড়বে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের দৌলতে এমন কিছু অভিনব গ্যাজেট আসতে চলেছে, যা প্রযুক্তির দুনিয়ায় নতুন দিশা দেখাতে পারে। বিনোদন, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য কিংবা দৈনন্দিন অভ্যাস- প্রায় সব ক্ষেত্রেই নতুন প্রযুক্তির গ্যাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এর মধ্যে কিছু ইতিমধ্যেই বাজারে এসেছে, আর কিছু খুব শিগগিরই আসতে চলেছে। রইল সেইসব গ্যাজেটের হদিশ।
স্মার্ট হোম রোবটঃ প্রায়ই পরিচারিকা না বলে কয়ে ছুটি নিয়ে নেন? আর তাতেই অফিস, বাড়ি সামলিয়ে হিমশিম খেতে হয়? ভবিষ্যতে এই সমস্যা থেকেই রেহাই দেবে রোবট। শিগগিরিই আপনার হাতের নাগালে চলে আসবে হোম রোবট যা আপনার নির্দেশ বুঝে ঘর পরিষ্কার করা থেকে জিনিসপত্র এনে দেওয়া বা ঘরের নিরাপত্তা নজরদারি করার মতো কাজ নিমেষে করতে পারবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রোবটগুলো পরিবারের সদস্যদের অভ্যাসও শিখে নিতে পারবে।
হাই-স্পিড এয়ার ডাস্টার: কম্পিউটারের কিবোর্ড, ল্যাপটপ, ক্যামেরা কিংবা গাড়ির ড্যাশবোর্ডের মতো জায়গায় ধুলো জমে গেলে সাধারণ কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করা বেশ ঝক্কির। সেই কাজই সহজ করে দেয় হাই-স্পিড এয়ার ডাস্টার। ছোট আকারের এই পরিষ্কার করার যন্ত্র জোরালো বাতাসের সাহায্যে ধুলো উড়িয়ে দেয়। ফলে খুব তাড়াতাড়ি এবং সহজেই ধুলো পরিষ্কার করা যায়।
ললিপপস্টার: এবার ক্যান্ডির স্বাদের সঙ্গে মিলবে গান শোনার সুযোগও। ভাবতে যতই অবাক লাগুক, অত্যাধুনিক এক গ্যাজেটের দৌলতে এমনই সুবিধা পেতে পারেন। ললিপপস্টার। দেখতে সাধারণ ক্যান্ডির মতো, তবে এর ভেতরে রয়েছে বিশেষ প্রযুক্তি। এই ললিপপ মুখে রাখলে ‘বোন কন্ডাকশন’ পদ্ধতিতে কম্পনের মাধ্যমে শব্দ সরাসরি কানে পৌঁছয়। ফলে আপনি ক্যান্ডি খেতে খেতেই পছন্দের গান শুনতে পারবেন।
সিঁড়ি ওঠা রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার: সাধারণ রোবট ভ্যাকুয়াম মেঝে পরিষ্কার করতে পারে, কিন্তু সিঁড়ি উঠতে পারে না। নতুন এই রোবটের বিশেষ চাকা ও ছোট ‘পা’ রয়েছে, যার সাহায্যে দিব্যি সিঁড়ি বেয়ে উঠে চটজলতি পুরো বাড়ি পরিষ্কার করতে পারবে এই রোবট।
সুইকার (এআই পোষা প্রাণী): ডিমের মতো দেখতে এই ডিভাইসটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘ফুটে’ বের হয় এবং ছোট একটি ডিজিটাল পোষা প্রাণীতে পরিণত হয়। দিব্যি আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারে, আচরণ শিখতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে বদলাতেও পারে এই যন্ত্রটি।
স্মার্ট ইউরিন টেস্ট কিটঃ স্বাস্থ্য পরীক্ষাও এখন আরও সহজ। স্মার্ট ইউরিন টেস্ট কিট প্রস্রাবের নমুনা বিশ্লেষণ করে শরীরের পুষ্টির অবস্থা, জলের ঘাটতি বা অন্যান্য স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য মোবাইল অ্যাপে দেখিয়ে দিতে পারে।
এআই হেয়ার কাটার মেশিন: যারা বাড়িতেই চুল কাটতে চান, তাদের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে এআই হেয়ার কাটার মেশিন। এই ডিভাইস মাথার আকার বিশ্লেষণ করে সঠিকভাবে চুল কাটতে সাহায্য করে।
স্মার্ট নেইল পলিশ: ফ্যাশন প্রযুক্তিতেও এসেছে নতুন চমক। বিদ্যুতের সাহায্যে মুহূর্তের মধ্যে নখের রং বদলাতে পারে স্মার্ট নেইল পলিশ। এক নেইল পলিশেই বিভিন্ন রং ব্যবহার করা সম্ভব।
আল্ট্রা-থিন ফোল্ডেবল স্মার্টফোনঃ স্মার্টফোন প্রযুক্তি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আগামী দিনে আরও পাতলা ও ভাঁজ করা যায় এমন ফোন বাজারে আসতে পারে। ফোন খুললে বড় স্ক্রিনের মতো ব্যবহার করা যাবে, আবার ভাঁজ করে সহজেই পকেটে রাখা যাবে। উন্নত ডিসপ্লে প্রযুক্তি, শক্তিশালী প্রসেসর, উন্নত ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারিও থাকতে পারে।
আর স্মার্ট গ্লাসঃ এআর বা অগমেন্টেড রিয়্যালিটি প্রযুক্তির চশমা ভবিষ্যতের অন্যতম আকর্ষণীয় গ্যাজেট হতে চলেছে। এই চশমা চোখে পরলে বাস্তব জগতের ওপর বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য দেখা যাবে। যেমন ধরুন অচেনা জায়গায় নেভিগেশন পাওয়া, মেসেজ বা নোটিফিকেশন সরাসরি চশমার লেন্সে দেখা যেতে পারে। এতে স্মার্টফোন বারবার হাতে নেওয়ার প্রয়োজন কমে যাবে।
মাল্টি-পোর্ট স্মার্ট চার্জারঃ স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, স্মার্টওয়াচ বা ইয়ারফোন আলাদা আলাদা সবকিছুর চার্জ দিতে বিরক্ত লাগে? এবার এই ঝামেলার দিন শেষ। ইতিমধ্যে বাজারে গিয়েছে মাল্টি-পোর্ট চার্জার। যা ব্যবহার করলে একসঙ্গে কয়েকটি ডিভাইস চার্জ দিতে পারবেন। এতে সময় যেমন বাঁচবে, তেমন চার্জিংও আরও সহজ হয়ে ওঠে।
আল্ট্রাসনিক শেফ’স নাইফঃ রান্নাঘরের সাধারণ ছুরি এখন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় হয়ে উঠছে আরও স্মার্ট। আল্ট্রাসনিক শেফ’স নাইফ দেখতে আর পাঁচটা রান্নার ছুরির মতো হলেও এর ব্লেডে থাকে সূক্ষ্ম আল্ট্রাসনিক কম্পন। পাইজোইলেকট্রিক সিরামিক ক্রিস্টালের মাধ্যমে এই কম্পন তৈরি হয়, ফলে খুব সহজে ও নিখুঁতভাবে খাবার কাটা যায়। ব্যবহারকারী হাতে তেমন কম্পন অনুভব করেন না এবং শব্দও প্রায় শোনা যায় না।
