গোয়া হোক বা বিদেশের কোনও সমুদ্র সৈকত, বিকিনি পরে উষ্ণতা ছড়াতে দেখা যায় বহু ললনাকে। কিন্তু তাই বলে এই পোশাকে সেজে লাইনে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে পুরুষরা! ব্যাপার কী?
কী ঘটেছে? সম্প্রতি একটি পেট্রোলপাম্পের তরফে ঘোষণা করা হয় যে বা যাঁরা বিকিনি পরে আসবেন সেখানে, তিনি বা তাঁরা বিনামূল্যে পেট্রোল পাবেন। আর এই ঘোষণাকে নিতান্তই সত্য বলে মেনে নিয়ে সেখানে গিয়ে বিকিনি পরে ভিড় জমাতে থাকেন পুরুষরা!
২০১৬ সালে রাশিয়ার একটি গ্যাস স্টেশনের তরফে এই প্রচার করা হয়েছিল। তাদের তরফে ভাবা হয়েছিল, এটি নিছক একটি জনপ্রিয় প্রচার স্টান্ট হবে। কিন্তু ওই শীতের দেশে লোকজন ব্যাপারটাকে এত সিরিয়াসলি নিয়ে নেবেন, এবং বিকিনি পরে সত্যি সত্যিই গ্যাস স্টেশনে চলে আসবেন সেটা প্রত্যাশা করেনি।
এই গ্যাস স্টেশনের মূল আইডিয়া কী ছিল? তাদের তরফে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাঁরা বিকিনি পরে আসবেন, তাঁরা বিনামূল্যে গাড়ির ফুল ট্যাঙ্ক পেট্রোল ভরে নিয়ে যেতে পারবেন। এই গ্যাস স্টেশনের তরফে ভাবা হয়েছিল, বোধহয় সুন্দরীরা সব বিকিনিতে উষ্ণতা ছড়াবেন। এতে লোকজনের নজর কাড়বে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই পড়বে। সুন্দরীদের দেখার টানে আরও বহু মানুষ সেখানে আসবেন। ফলে জমাটি ব্যবসা হবে। ভিড় হবে। কিন্তু ভাগ্যের অন্য কিছু ইচ্ছে ছিল।
পুরুষরা বিকিনি পরে গাড়ি নিয়ে এই গ্যাস স্টেশনে আসতে থাকেন। পরে যায় লম্বা লাইন। কেউ সত্যিই বিনা পয়সায় তেল ভরতে আসেন। আর কেউ কেউ নিছক মজা করে বন্ধুদের সঙ্গে এসে যোগ দেন। বিষয়টা রীতিমত হাসাহাসি, খোরাকের পর্যায় পড়ে যায়।
কেউ তো আবার বিকিনির সঙ্গে হাই হিল পরে এসেছিলেন। বাদ যায়নি গয়নাগাটি, রোদচশমা। আর মুহূর্তের মধ্যে গোটা বিষয়টা দেখার মতো জিনিসে পরিণত হয়।
গ্যাস স্টেশন নজর কাড়তে চেয়েছিল, সেটা বাস্তবায়িত হয়। তবে অন্য কারণে। আর যেহেতু গ্যাস স্টেশনের তরফে বলা হয়েছিল যাঁরা বিকিনি পরে আসবেন তাঁরাই বিনামূল্যে ফুল ট্যাঙ্ক তেল পাবেন, নির্দিষ্ট কোনও লিঙ্গ উল্লেখ করা হয়নি, তাই পুরুষরা বিকিনি পরে এলেও তাদের তেল দিতে বাধ্য হয় এই গ্যাস স্টেশন। ফলে লোকসান হয় বিস্তর। মার্কেটিং চমক দিতে গিয়ে, ক্ষতির মুখে পড়ে তাঁরা। তবে বিষয়টা সমাজমাধ্যমে দারুণ ভাইরাল হয়।
