মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ঠিক রাখতে এখন অনেকেই সেটিং স্প্রে ব্যবহার করেন। বিশেষ করে গরমে বা পার্টি, বিয়ে কিংবা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে এই স্প্রে খুব জনপ্রিয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই সেটিং স্প্রে অসাবধানে শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকে গেলে ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে। তাই এটি ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকা খুব জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ সেটিং স্প্রেতে অ্যালকোহল, সুগন্ধি রাসায়নিক, প্রোপেল্যান্ট গ্যাস এবং খুব সূক্ষ্ম কণিকা থাকে। স্প্রে করার সময় এই কণাগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। তখন অনেক সময় আমরা বুঝতে না পেরেই সেগুলো নাক বা মুখ দিয়ে শ্বাসের সঙ্গে শরীরে টেনে নিই। এর ফলে গলা জ্বালা, শুকনো কাশি, বুক ভার লাগা বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যাদের আগে থেকেই হাঁপানি, অ্যালার্জি বা অন্য কোনও শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ এই রাসায়নিক কণাগুলো শ্বাসনালীকে উত্তেজিত করে দেয়। অনেক সময় হঠাৎ করে শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে যায়, যাকে ব্রঙ্কোস্পাজম বলা হয়। এতে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে সমস্যা হয় এবং দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজনও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত বা অতিরিক্ত পরিমাণে সেটিং স্প্রে ব্যবহার করলে ফুসফুসের গভীর অংশেও প্রভাব পড়তে পারে। খুব ছোট ছোট রাসায়নিক কণিকা ফুসফুসের টিস্যুতে গিয়ে প্রদাহ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে ফুসফুস দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। যদিও সবার ক্ষেত্রে একই সমস্যা হয় না, তবু সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

শুধু ফুসফুস নয়, সেটিং স্প্রের তীব্র গন্ধ থেকেও নানা সমস্যা হতে পারে। অনেকের মাথাব্যথা, চোখ জ্বালা, মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব হতে পারে। যাদের সুগন্ধি বা কসমেটিকস থেকে অ্যালার্জি হয়, তাদের আরও সাবধানে ব্যবহার করা উচিত।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ভয় পাওয়ার দরকার নেই। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। যেমন স্প্রে সবসময় মুখ থেকে কিছুটা দূরে ধরে ব্যবহার করুন, একবারে খুব বেশি স্প্রে করবেন না, স্প্রে করার সময় চোখ ও মুখ বন্ধ রাখুন, বন্ধ ঘরের বদলে খোলা বা বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় ব্যবহার করুন, ব্যবহার করার পর যদি কাশি বা শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করুন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের হাঁপানি বা ফুসফুসের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। সৌন্দর্যের জন্য ব্যবহৃত কোনও পণ্য যেন স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ না হয়, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।