আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির মধ্যে একটি হল মস্তিষ্ক। স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, চিন্তাভাবনা থেকে শুরু করে শরীরের প্রায় সব কাজই নিয়ন্ত্রণ করে ব্রেন। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক সুস্থ রাখা খুব জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ধাঁধা খেলা বা বই পড়াই নয়, প্রতিদিনের খাবারও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উপর বড় প্রভাব ফেলে। এমন ৫ ধরনের খাবার খান যা ব্রেনকে সক্রিয় ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
তেলযুক্ত মাছঃ স্যামন, টুনা, সার্ডিন বা ম্যাকারেলের মতো মাছকে ব্রেনের জন্য খুব উপকারী বলা হয়। এই মাছগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এটি মস্তিষ্কের কোষকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়ক। নিয়মিত এই ধরনের মাছ খেলে বয়সের সঙ্গে স্মৃতিভ্রংশ বা ভুলে যাওয়ার সমস্যা কিছুটা কম হতে পারে। যাঁরা মাছ খান না, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ অন্য খাবারও খেতে পারেন।
সবুজ শাকসবজিঃ পালং শাক, মেথি, ব্রকোলি বা অন্যান্য সবুজ পাতাযুক্ত সবজি ব্রেনের জন্য খুব উপকারী। এতে রয়েছে ভিটামিন কে, ফলেট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত শাকসবজি খেলে মনোযোগ বাড়ে এবং মস্তিষ্ক দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিনের খাবারে অন্তত এক বাটি সবুজ শাক রাখা উচিত।
টমেটোঃ টমেটো শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না, মস্তিষ্কের জন্যও খুব ভাল। এতে থাকা লাইকোপিন নামের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে ব্রেন সেলের ক্ষয় ধীরে হয়। স্যালাড, স্যুপ বা তরকারিতে নিয়মিত টমেটো রাখলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
আখরোট ও বেরিজাতীয় ফলঃ আখরোট দেখতে অনেকটা মানুষের মস্তিষ্কের মতো, আর এর গুণও ব্রেনের জন্য দারুণ। এতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ওমেগা-৩, যা মস্তিষ্কের পুষ্টি জোগায়। পাশাপাশি ব্লুবেরি, স্ট্রবেরির মতো বেরিজাতীয় ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত অল্প পরিমাণে আখরোট বা ফল খেলে মস্তিষ্ক সতেজ থাকে।
চা ও কফিঃ পরিমিত পরিমাণে চা বা কফি খেলে মনোযোগ ও কাজের ক্ষমতা বাড়তে পারে। এতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে গ্রিন টি-তে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্রেনের জন্য উপকারী। তবে অতিরিক্ত কফি খেলে ঘুমের সমস্যা বা উদ্বেগ বাড়তে পারে, তাই দিনে সীমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এই খাবার খেলেই হবে না, সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক চাপ কম রাখাও জরুরি। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই দীর্ঘদিন মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।















