সময়ের সঙ্গে বয়স বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অনেকসময় দেখা যায়, কম বয়সেই মুখে বলিরেখা পড়ছে, ত্বক নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে, চুল পেকে যাচ্ছে বা শরীরে সবসময় ক্লান্তি লাগছে। চিকিৎসকদের মতে, এর বড় কারণ হতে পারে প্রতিদিনের কিছু ভুল অভ্যাস। অজান্তেই এমন কিছু কাজ আমরা নিয়মিত করি, যা শরীরকে ভিতর থেকে দুর্বল করে দেয় এবং দ্রুত বার্ধক্যের দিকে ঠেলে দেয়।
১) পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়াঃ বর্তমানে অনেকেই রাত জেগে মোবাইল ব্যবহার করেন, সিরিজ দেখেন বা কাজ করেন। কিন্তু কম ঘুম শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর। আমরা যখন ঘুমাই, তখন শরীর নিজেকে মেরামত করে এবং নতুন কোষ তৈরি হয়। যদি প্রতিদিন ৬-৭ ঘণ্টার কম ঘুম হয়, তাহলে ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা কমে যায়। চোখের নীচে কালো দাগ পড়ে, মুখ ক্লান্ত দেখায় এবং দ্রুত বলিরেখা দেখা দিতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, কম ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়।
২) বেশি চিনি ও জাঙ্ক ফুড খাওয়াঃ অতিরিক্ত মিষ্টি, ঠান্ডা পানীয়, চিপস, বার্গার বা প্রসেসড খাবার শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বেশি চিনি খেলে শরীরে এমন এক ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা ত্বকের কোলাজেন নষ্ট করে দেয়। কোলাজেনই ত্বককে টানটান ও সুন্দর রাখে। এটি কমে গেলে ত্বক ঢিলে হয়ে যায় এবং বয়সের ছাপ দ্রুত ফুটে ওঠে। এছাড়া অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড শরীরে প্রদাহ বাড়ায়, যা চুল ও ত্বকের ক্ষতি করে।
৩) সারাদিন বসে থাকাঃ অনেকেই দিনের বেশিরভাগ সময় চেয়ার বা বিছানায় বসে কাটান। শারীরিক পরিশ্রম কম হলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয় না। ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ওজন বাড়তে শুরু করে। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম না করলে পেশি দুর্বল হয়, হাড়ের শক্তি কমে এবং শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যেতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার পরামর্শ দেন।
৪) কম জল খাওয়াঃ জল শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কম জল খেলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। এর প্রভাব সবচেয়ে আগে পড়ে ত্বকে। ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়, মুখে ক্লান্ত ভাব দেখা দেয়। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত জল না খেলে ত্বকে বলিরেখা দ্রুত পড়তে পারে। তাই প্রতিদিন অন্তত ২-৩ লিটার জল খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
৫) অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেওয়াঃ স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা শুধু মন খারাপ করে না, শরীরেরও বড় ক্ষতি করে। অতিরিক্ত চাপের কারণে শরীরে কর্টিসল নামের হরমোন বেড়ে যায়। এতে ত্বকের ক্ষতি হয়, চুল পড়ে এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। যারা সবসময় টেনশনে থাকেন, তাঁদের শরীরে ক্লান্তি বেশি দেখা যায় এবং বয়সের ছাপও দ্রুত পড়ে।
কী করলে তারুণ্য ধরে রাখা সম্ভব? চিকিৎসকদের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই দীর্ঘদিন তরুণ থাকার সবচেয়ে বড় রহস্য। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, বেশি জল খাওয়া এবং মানসিক চাপ কম রাখলে শরীর ও ত্বক দীর্ঘদিন ভাল থাকে। ছোট ছোট অভ্যাস বদলালেই আপনি অনেক বেশি সতেজ, সুস্থ এবং তরুণ অনুভব করতে পারবেন।















