আজকের দিনে মোবাইল ফোন ও সমাজমাধ্যম আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত ডিজিটালেই যেন আবদ্ধ আট থেকে আশির জীবন। এই অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভরতা যে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তা বারে বারে বলে এসেছেন মনোবিদরা। সম্প্রতি সেই কথাই আবার সামনে এনেছেন করণ জোহর। পরিচালক তথা প্রযোজক জানিয়েছেন, তিনি কিছুদিনের জন্য 'ডিজিটাল ডিটক্স'-এ যাচ্ছেন। অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়া, অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং ও ফোন ব্যবহার থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন।
করণ জোহরের এই সিদ্ধান্ত অনেককেই ভাবতে বাধ্য করেছে সত্যিই কি ডিজিটাল ডিটক্স দরকার? বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের পর দিন অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিদ্রা এবং একাকীত্ব বাড়িয়ে দেয়। সবসময় নোটিফিকেশনের শব্দ, লাইক-কমেন্টের অপেক্ষা কিংবা অন্যের জীবন দেখে নিজের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা আমাদের মনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মনোবিদরা বলছেন, ডিজিটাল ডিটক্স মানে ফোনের ব্যবহার একেবারে বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং সচেতনভাবে ফোন ব্যবহার কমানো। শুরুটা ছোট করে করা সবচেয়ে ভালো। যেমন ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন বন্ধ রাখা, সকালে ঘুম থেকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে ফোন না দেখা, খাবার সময় ফোন থেকে দূরে থাকা। এই ছোট অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে মানসিক শান্তি এনে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি হঠাৎ ফোন হাতে নিতে ইচ্ছে করে, তাহলে নিজেকে ৫ মিনিট সময় দিন। এই ৫ মিনিটে জল খান, জানালার বাইরে তাকান, একটু হাঁটাহাঁটি করুন বা পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলুন। বেশিরভাগ সময় দেখবেন, ফোন দেখার তাগিদ নিজে থেকেই কমে গিয়েছে। কারণ, অনেক সময় ফোন ধরা আসলে প্রয়োজন নয়, এটা একটা অভ্যাস মাত্র।
ডিজিটাল ডিটক্সের সময় পরিবার, বন্ধু বা অফিসের সহকর্মীদের আগে থেকেই জানিয়ে রাখা ভাল। এতে তারা বুঝবে কেন আপনি বারবার ফোন ধরছেন না। প্রয়োজনে দিনে নির্দিষ্ট এক-দু’বার ফোন চেক করার সময় ঠিক করে নিতে পারেন। এতে কাজেও অসুবিধা হবে না, আবার মনও হালকা থাকবে।
ডিটক্সের সময় ফোনের বদলে অন্য কাজ খুঁজে নেওয়াটাও জরুরি। বই পড়া, গান শোনা, হাঁটতে বেরনো, যোগব্যায়াম, রান্না বা পুরোনো শখে ফিরে যাওয়া-এই কাজগুলো মনকে শান্ত করে এবং বাস্তব জীবনের সঙ্গে আবার সংযোগ তৈরি করে।
করণ জোহরের ডিজিটাল ডিটক্স যেন আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করার জন্য, আমাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নয়। একটু সচেতন হলেই আমরা মানসিক চাপ কমাতে পারি এবং আরও সুস্থ, শান্ত জীবনযাপন করতে পারি।
