এ দিনটা শুধুই বাঙালির। মাস পয়লায় আরও একটা নতুন বছর জানান দেবে বাংলা ক্যালেন্ডার, পঞ্জিকার পাতা কিংবা গুগল সার্চ। গোটা বছরটা যেমন তেমন কাটুক, বঙ্গজীবন যতটাই মিলিজুলি হয়ে থাক অবাঙালিয়ানা কিংবা ভিনদেশি যাপনের সঙ্গে, এই দিনটায় তবু শিকড়ের টান। আর তাই সাজ থেকে স্বাদ, সবেতেই বাঙালি হয়ে ওঠা। নতুন করে। 

কিন্তু শুধু কি আপনিই সাজবেন? ঘর সাজবে না? বাঙালি হয়ে ওঠার সাধ তারই বা কম কীসে! অতএব এই দিনটায় চেনা অন্দরেও থাকুক না একটু বাঙালিয়ানার গন্ধ?

চটজলদি ঘরের ভোলবদলে যা করতে পারেন:

বেডকভার-পর্দা-কুশন কভার - স্ট্রাইপ, চেক, গ্রাফিক প্রিন্ট সরিয়ে এই দিনটায় বরং একটু শান্তিনিকেতনী ছোঁয়া আনবেন নাকি? বাটিকের পর্দা, বেডকভার কিংবা কুশন কভার সেট একটা না একটা আছেই আলমারিতে ঠিক! ক্লিশে লাগছে? বেশ তো। আরও একটু অন্য রকম হতে চাইলে শান্তিপুরী পাড় কিংবা গামছা পাড়ের পর্দা, কুশন কভার বা বেডকভার বেছে নিন না! 

টেবিল ক্লথ- পুরনো গল্প-উপন্যাসে বাঙালি বাড়িতে সুতির টেবিল ক্লথে থাকত বাড়ির গৃহিণীর নিজের হাতে ফুটিয়ে তোলা হতো সুতোর ফুলের নকশা। আপনার বাড়িও ব্যতিক্রম নয় মোটেই। ঠাকুমা-দিদিমাদের ট্রাঙ্ক কিংবা আলমারি একটু ঘেঁটে দেখুন না। আছে।

বাসনপত্র- এই দিনটায় জমিয়ে খাওয়াদাওয়া তো হবেই। আত্মীয়-বন্ধুরাও আসবে নির্ঘাত। ক্রিস্টাল, টাপারওয়্যার, বোন চায়না সব সরিয়ে বার করে আনুন পুরনো কাঁসার থালাবাটি। যাকে বলে ভিনটেজ বাঙালিয়ানা! চিনেমাটির সেকেলে ডিনারসেট কিংবা টিসেটও থাকতেই পারে। সেই পুরনো আমলের মতো।  

ফুল ও ফুলদানি – চিনেমাটি বা পিতলের ফুলদানি আছে নিশ্চয়ই? আগেকার বাঙালি বাড়িতে ঘর সাজাতে যার জুড়ি ছিল না! তেমনই ফুলদানিতে সাজিয়ে তুলুন বসার ঘর থেকে শোওয়ার ঘর। আর তাতে থাক গোলাপ, জুঁই, রজনীগন্ধার মতো তাজা ফুলের গোছা।

বসার ব্যবস্থা – সোফা, চেয়ার, ডিভান তো রইলই। সঙ্গে ইতিউতি ছড়িয়েছিটিয়ে থাক বেতের মোড়া, কিংবা বারান্দায় বেতের দোলনা। সঙ্গে কাজ করা কাঠের ছোট্ট টিপয়। বৈশাখী আড্ডার মৌতাতটাও বেশ অন্যরকম হবে কিন্তু। 

ঘর সাজানোর টুকিটাকি- বাঙালি বাড়ির চিরাচরিত নিয়মে ঘর সাজাতে দেওয়ালে কাঠের ফ্রেমে ঝুলিয়ে দিন মনের মতো কিছু পেন্টিং। মা-বাবা কিংবা দাদু-দিদার আমলের হাতে তৈরি ওয়াল হ্যাঙ্গিং আছে?  আগে তো ঘরে ঘরে এমন জিনিস তৈরি হত। থাকলে দেওয়ালে ঝুলিয়ে দিতে ভুলবেন না। বসার ঘরে, বারান্দার কোণে, শোওয়ার ঘরে শোভা পাক কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল, ডোকরার গণেশ, বাঁকুড়ার ঘোড়া কিংবা পুরুলিয়া থেকে আনা ছৌ মুখোশ। 
  
শুধু কি ঘরের সাজ? একটু দেওয়া-থোয়াও তো হবে নাকি? বাঙালি বাড়িতে তো উপলক্ষ পেলেই হল, উপহার বিনিময় হবেই হবে! পয়লার আড্ডায় কারও বাড়ি যাচ্ছেন? কিংবা আপনার বাড়িতে আসা অতিথিকে কিছু দেওয়ার প্ল্যান? উপহারও হোক বাঙালিয়ানায় মোড়া। 

পোশাক হলে বেছে নিন তাঁত কিংবা বাটিক। বেডকভার, কুশনকভার বা পর্দার সেটেও থাক বাঙালি শিল্পরীতি। দিতে পারেন শান্তিনিকেতনী ঝোলা বা বটুয়াও। টুকিটাকি কিছু দিতে চাইলে ডোকরা, কাঠ বা মাটির পুতুল, মূর্তি, অ্যাশট্রে কিংবা ফুলদানি দিতেই পারেন। 

তবে বাঙালি বাড়িতে বই উপহার দেওয়ার চলও কিন্তু চিরন্তন। পছন্দের মানুষের হাতে তুলে দিতে পারেন পছন্দের বই। তার স্বাদই আলাদা। আর হ্যাঁ, প্রবাসী বাঙালি কেউ আসছেন অতিথি হয়ে? একেবারে অন্য রকম ছোট্ট একটা উপহারেই তাঁকে চমকে দিতে পারেন কিন্তু। খাঁটি বাঙালি রান্নার চেনা মশলাপাতি ছোট্ট ছোট্ট প্যাকেট করুন। সঙ্গে একটা মশলাদানির সেট। দেখুন মুখে কেমন হাসি ফোটে!

একটা মোটে দিন। খাওয়াদাওয়া থেকে সাজসজ্জা, ঘরে-বাইরে পুরোদস্তুর বাঙালিয়ানাতেই কাটুক না! এরপরে তো আবার সেই দুর্গাপুজো!