আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের হলফনামা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে। সেই প্রেক্ষিতে খড়দহ বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী দেবজ্যোতি দাস (শুভ)-এর জমা দেওয়া হলফনামায় উঠে এসেছে তাঁর জীবনযাপন ও আর্থিক অবস্থার এক অনন্য ছবি। উচ্চশিক্ষিত হয়েও তাঁর অনাড়ম্বর জীবন নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের।
2
8
হলফনামা অনুযায়ী, প্রার্থী দেবজ্যোতি দাসের হাতে নগদ রয়েছে মাত্র ১০,০০০ টাকা। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী চৈতালি সাঁকির কাছে নগদের পরিমাণ মাত্র ৩,০০০ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী দেবজ্যোতি দাসের বার্ষিক আয় ৪,৭১,৬৭০ টাকা।
3
8
এমটেক ডিগ্রিধারী এই প্রার্থীর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩৮,৭২,৪১৬.১৩ টাকা। এর সিংহভাগই রয়েছে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফিক্সড ডিপোজিট এবং সেভিংস হিসেবে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর নামে ২৮,১০,৩৮২.৮৬ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।
4
8
দেবজ্যোতি দাসের নামে কোনও সোনা না থাকলেও তাঁর স্ত্রীর কাছে ১১৬ গ্রাম সোনা রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৬,২৮,০৬০ টাকা। প্রার্থীর নিজস্ব বাহন বলতে রয়েছে ২০২০ সালে কেনা একটি হিরো সুপার স্প্লেন্ডার মোটরবাইক।
5
8
হলফনামায় প্রার্থীর একটি অত্যন্ত চমকপ্রদ দিক হল তাঁর নামে কোনও জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট নেই। কৃষি জমি থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বা বসতবাড়ি— সব কলামেই তিনি 'NIL' উল্লেখ করেছেন। এমনকি দেবজ্যোতি দাসের কোনও আর্থিক ঋণ বা ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া দেনাও নেই।
6
8
দেবজ্যোতি দাস একজন অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত প্রার্থী। তিনি ২০১৪ সালে কলকাতার National Institute of Technical Teachers Training and Research থেকে মাস্টার অফ টেকনোলজি (M.Tech) ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশায় তিনি নিজেকে স্ব-নির্ভর (Self Employed) হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং আয়ের উৎস হিসেবে পারিবারিক ব্যবসা 'এইচ ভি ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি' ও ব্যাঙ্কের সুদের কথা উল্লেখ করেছেন।
7
8
খড়দহের এই লড়াইয়ে দেবজ্যোতি দাসের মতো শিক্ষিত এবং আড়ম্বরহীন প্রার্থীর উপস্থিতি বাম শিবিরের নৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করছে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। বিত্তের ঝনঝনানির বিপরীতে তাঁর এই সাদামাটা হলফনামা ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
8
8
বিত্তের এই দাপাদাপির যুগে একজন শিক্ষিত প্রার্থীর এমন অনাড়ম্বর জীবন কি বর্তমান রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক?