গত এক বছরে ভারতের শেয়ার বাজার তীব্র ওঠানামার মধ্যে দিয়ে গেছে। বিশ্বের রাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ম্যাক্রো পরিস্থিতির পরিবর্তন—সব মিলিয়ে বাজারে অস্থিরতা ছিল স্পষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের অক্ষয় তৃতীয়ার আগে বিনিয়োগের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, সোনা স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে শেয়ার বাজারের তুলনায়।
2
9
গত বছরের অক্ষয় তৃতীয়া থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সোনার দাম প্রায় ৬২% বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের প্রধান সূচক নিফটি ফিফটি মাত্র ০.৭% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিশাল পার্থক্যই প্রমাণ করে যে অনিশ্চিত সময়ে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকেই বেশি ঝুঁকেছেন।
3
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির ধারাবাহিক সোনা কেনা এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের প্রতি ঝোঁক—এই দুই কারণেই সোনার দাম এতটা বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি সোনাকে আবারও ‘সেফ-হ্যাভেন’ সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
4
9
তবে শেয়ার বাজারে সম্পূর্ণ হতাশার চিত্রও নয়। শ্রীরাম ফাইনান্স এবং হিনডালকো ইন্ডাস্ট্রি এই দুটি কোম্পানি সোনার থেকেও বেশি রিটার্ন দিয়েছে। শ্রীরাম ফাইন্যান্সের শেয়ার প্রায় ৬৯% বেড়েছে, আর হিন্ডালকো ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৭.৭%। এই দুই স্টকই বিনিয়োগকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য লাভ এনে দিয়েছে।
5
9
এছাড়া টাকা স্টিল এব ভারত ইলেকট্রনিক্সের শেয়ার যথাক্রমে ৫৩.৮% এবং ৪৬% বৃদ্ধি পেলেও সোনার রিটার্নকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।
6
9
দীর্ঘমেয়াদে শ্রীরাম ফাইন্যান্স এবং হিন্ডালকোর পারফরম্যান্স আরও চমকপ্রদ। গত দুই বছরে শ্রীরাম ফাইন্যান্স ১১৫% এবং পাঁচ বছরে ২৭৫% রিটার্ন দিয়েছে। একইভাবে হিন্ডালকো দুই বছরে ৭০% এবং পাঁচ বছরে ১৭৯% লাভ দিয়েছে। টেকনিক্যাল দিক থেকে হিন্ডালকো শেয়ার ১,০১০ স্তরের ওপরে ব্রেকআউটের চেষ্টা করছে, যা ভবিষ্যতে আরও ঊর্ধ্বমুখী গতির ইঙ্গিত দিতে পারে।
7
9
অন্যদিকে, ২০২৬ সালে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। যদি বিশ্ব অর্থনীতি ‘স্ট্যাগফ্লেশন’-এর দিকে যায় বা অপরিশোধিত তেলের দাম কম থাকে, তবে সোনার দাম আরও শক্তিশালী হতে পারে।
8
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ৫,৩০০ থেকে ৫,৫০০ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমান স্তর থেকে প্রায় ১০–১৫% বেশি। ভারতের বাজারে সোনার দাম ১,৭০,০০০ থেকে ১,৮৫,০০০ পর্যন্ত যেতে পারে।
9
9
সব মিলিয়ে বলা যায়, অনিশ্চিত সময়ে সোনা আবারও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছে। তবে নির্বাচিত কিছু শক্তিশালী শেয়ার এখনও ভালো রিটার্ন দিতে সক্ষম। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা—অর্থাৎ সোনা ও শেয়ার উভয় ক্ষেত্রেই বিচক্ষণভাবে বিনিয়োগ করা—এই মুহূর্তে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।