আজকাল ওয়েবডেস্ক: সমুদ্রের ধার। ঝাঁকে ঝাঁকে গোলাপি রঙের পাখি উড়ে যাচ্ছে। বা দাঁড়িয়ে রয়েছে সমুদ্রের ধারে। গলাটা একটু সরু এবং লম্বা। সহজেই বোঝা যায় পাখিগুলো আসলে ফ্লেমিঙ্গো। ওই গোলাপি পাখনাগুলোর জন্যই আরও সহজে চেনা যায়।

 

কিন্তু জানেন কি জন্মের সময়ে তাদের শরীর আসলে ঢাকা থাকে ধুসর ও সাদা রঙের নরম পালক দিয়ে! তার পর কিছু দিনের মধ্যেই যে তারা গোলাপি হয়ে ওঠে এমনটা কিন্তু একেবারেই নয়। বেশ অনেকখানি সময় লাগে তাদের ধুসর থেকে গোলাপি হয়ে উঠতে।

 

তাদের সাদা অথবা ধুসর থেকে গোলাপি হয়ে ওঠার পিছনে মূল কারণ খাদ্যাভ্যাস। তারা মূলত শৈবাল, প্ল্যাঙ্কটন আর ছোট ক্রাস্টেশিয়ান খায়। এই সবগুলির মধ্যেই ক্যারোটিনয়েড নামের এক প্রাকৃতিক পিগমেন্ট থাকে। ক্যারোটিনয়েড এমন এক ধরনের উপাদান যা গাজর, টম্যাটো এবং কুমড়োর মতো সবজিতে থাকে। রং হয় মূলত গাঢ় গোলাপি বা লাল।

 

এই জাতীয় খাবার খেলে ফ্লেমিঙ্গোদের শরীর প্রথমে ক্যারোটিনয়েডকে ভেঙে ফেলে। যার ফলে তাদের চামড়ার এবং পালকের রং ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে। দীর্ঘ দিন ধরে একই ধরনের খাবার খাওয়ার ফলে তাদের রং একসময় পুরোপুরি বদলে যায়। গোলাপি আভা ফুটে ওঠে তাদের পালকে।

 

জন্মানোর পর অনেকদিন পর্যন্ত ফ্লেমিঙ্গোদের পালক ধূসর বা ফ্যাকাসে সাদা রঙের থাকে। ধীরে ধীরে তাদের রং গাঢ় হয়। আবার সব ফ্লেমিঙ্গোর রং একরকম হয় না। যারা বেশি ক্যারোটিনয়েডযুক্ত খাবার খায়, তাদের রং বেশি উজ্জ্বল হয়। আবার যারা কম ক্যারোটিনয়েডযুক্ত খাবার খায়, তাদের রং হয় হালকা বা ফ্যাকাসে গোলাপি।

 

এই গোলাপি রংটিও কিন্তু তাদের শরীরে স্থায়ী নয়। যদি খাবারে ক্যারোটিনয়েড কম থাকে, তাহলে তাদের রং ধীরে ধীরে আবার ফিকে হতে থাকে। এই কারণেই চিড়িয়াখানায় আটক ফ্লেমিঙ্গোদের বিশেষ খাবার দেওয়া হয়। তাদের ডায়েটে ক্যারোটিনয়েড যোগ করা হয়। যাতে তারা গোলাপি রং বজায় রাখতে পারে।