গরম মানেই আমের মরশুম। রসালো, মিষ্টি এই ফল প্রায় সকলেরই প্রিয়। কিন্তু যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁদের কি আম খাওয়া উচিত? এই প্রশ্ন নিয়ে অনেকেরই সংশয় রয়েছে।
2
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিসে আম পুরোপুরি বন্ধ করার দরকার নেই। তবে কিছু নিয়ম মেনে চলা খুব জরুরি।
3
10
আমে প্রাকৃতিক চিনি থাকে, তাই এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কিছুটা বাড়তেই পারে। কিন্তু একইসঙ্গে আমে ফাইবার, ভিটামিন এ, সি এবং নানা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী।
4
10
আমের ফাইবার হজম প্রক্রিয়ার গতি কমায়, ফলে হঠাৎ করে সুগার খুব বেশি বেড়ে যায় না। তাই ডায়াবেটিকদের জন্য আম একেবারে ‘খারাপ’ ফল বলা ঠিক নয়।
5
10
তবে মূল কথা হল পরিমাণ। ডায়াবেটিস থাকলে বেশি আম খাওয়া ঠিক নয়। সাধারণভাবে হাফ কাপ কাটা আম বা ছোট একটি আমের অর্ধেক খাওয়াই যথেষ্ট। বেশি খেলে শরীরে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে।
6
10
কীভাবে আম খাবেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। খালি পেটে আম না খাওয়াই ভাল। বরং দুপুরের খাবারের পর বা বিকেলে অল্প পরিমাণে খেতে পারেন। আর আমের সঙ্গে যদি কিছু প্রোটিনজাত খাবার, যেমন দই বা কয়েকটা বাদাম খাওয়া যায়, তাহলে সুগার হঠাৎ বাড়ার ঝুঁকি কমে।
7
10
আরেকটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে। আমের জুস, মিল্কশেক, বা অতিরিক্ত মিষ্টি দিয়ে তৈরি আমের পদ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। কারণ এগুলোতে চিনি অনেক বেশি থাকে এবং খুব দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ায়।
8
10
কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পরিমাণ মতো আম খেলে শরীর ইনসুলিন ভালভাবে ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ, ঠিকভাবে খেলে আম কিছুটা উপকারও করতে পারে। তবে সকলের শরীর একরকম নয়, তাই কারও ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রভাবও হতে পারে।
9
10
যাঁদের সুগার খুব বেশি ওঠানামা করে বা নিয়ন্ত্রণে নেই, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আম খাওয়া উচিত।
10
10
সবমিলিয়ে বলা যায়, ডায়াবেটিস থাকলেই আম পুরোপুরি ছাড়তে হবে, এমন নয়। কিন্তু লোভে পড়ে বেশি খেলে বিপদ বাড়বে। অল্প পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং বুঝে-শুনে আম খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।