আমরা দৈনন্দিন জীবনে পায়ের নানা সমস্যাকে খুব সাধারণ বলে এড়িয়ে যাই। পা ফোলা, ব্যথা, অবশ লাগা বা হাঁটতে অস্বস্তি-এই সবকিছুকেই অনেক সময় ক্লান্তি, বয়স বা কাজের চাপের ফল বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, পায়ের কিছু নির্দিষ্ট পরিবর্তন শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হতে পারে। বেশিরভাগ মানুষই এই লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসার সব সময় হঠাৎ বড় উপসর্গ নিয়ে আসে না। অনেক সময় শরীর ছোট ছোট ইঙ্গিত দেয়, যার মধ্যে পায়ের কিছু পরিবর্তন অন্যতম। পায়ের কোন কোন লক্ষণ নিয়ে সতর্ক হবেন? জেনে নিন-

অকারণে পা ফোলাঃ যদি কোনও আঘাত বা বেশি হাঁটার কারণ ছাড়াই এক বা দুই পা ফুলে যায় এবং সেই ফোলা দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে সাবধান হওয়া প্রয়োজন। এটি লিম্ফ নোডে বাধা বা শরীরের ভেতরের কোনও টিউমারের ইঙ্গিত হতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী পায়ের ব্যথাঃ পায়ের ব্যথা সাধারণ হলেও, যদি বিশ্রাম নিলেও ব্যথা না কমে বা রাতে ব্যথা বাড়ে, তাহলে তা হাড়ের ক্যানসার বা অন্য কোনও ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

অবশ ভাব ও ঝিনঝিনে অনুভূতিঃ পায়ে বারবার অবশ হয়ে যাওয়া, ঝিনঝিন করা বা দুর্বল লাগা অনেক সময় নার্ভের উপর চাপ পড়ার কারণে হয়। কিছু ক্যানসার শরীরের নার্ভে চাপ সৃষ্টি করলে এই ধরনের উপসর্গ দেখা যায়।

পায়ে গাঁট বা পিণ্ড তৈরি হওয়াঃ পায়ের মাংসের ভেতরে যদি নতুন কোনও গাঁট দেখা যায় এবং সেটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, তাহলে অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে যদি গাঁটটি শক্ত হয় বা দ্রুত আকার বদলায়।

পায়ের ক্ষত না সারাঃ পায়ে কোনও ঘা বা ক্ষত যদি অনেকদিনেও না সারে, বারবার রক্ত বেরয় বা ক্ষতের রং বদলে যায়, তাহলে তা ত্বকের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

কেন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি? বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসার যত আগে ধরা পড়ে, চিকিৎসা তত সহজ ও সফল হয়। পায়ের এই ধরনের লক্ষণ সব সময় ক্যানসার বোঝায় না ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে থাকলে পরীক্ষা করানো জরুরি। কোনও অস্বাভাবিক ও ব্যাখ্যাতীত পরিবর্তন দেখলে তা এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সময়মতো সচেতন হলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।