ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভাল, একথা সকলেরই জানা। ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবারে ভরপুর ফল শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ফল সব সময় সমান উপকারী নয়।
কিছু ফলের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই চিনির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। ফলে সেইসব ফল বেশি খেলে বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে, রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
পুষ্টিবিদরা বলেন, ফলের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক চিনি বা ফ্রুক্টোজ পরিমিত পরিমাণে শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু যখন সেই ফল অতিরিক্ত খাওয়া হয় বা জুস করে পান করা হয়, তখন সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ জুসে ফাইবার কমে যায় এবং চিনি দ্রুত রক্তে মিশে যায়।
স্বাস্থ্যকর ভেবে যেসব ফল আমরা নিয়মিত খাই, তার মধ্যেই কয়েকটি ফলের চিনির মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি। তাহলে কোন কোন ফল বেশি খেলে সতর্ক হতে হবে, জেনে নিন-
আম: স্বাদে মিষ্টি ও পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও এতে চিনির পরিমাণ অনেক। বেশি খেলে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে।
কলা: শক্তি জোগালেও অতিরিক্ত কলা খেলে শরীরে সুগারের মাত্রা দ্রুত বাড়ে।
আঙুর: আঙুল আকারে ছোট হওয়ায় একসঙ্গে অনেকটা খাওয়া হয়ে যায়, ফলে শরীরে সুগার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আনারস: এতে প্রাকৃতিক চিনি ও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি। ফলে ডায়াবেটিসে বুঝেশুনে খাওয়া উচিত।
লিচু: গরমকালে জনপ্রিয় এই ফলে চিনির পরিমাণ কম নয়।
খেজুর ও কিশমিশ: শুকনো ফল হওয়ায় অল্প পরিমাণ খেলেও শরীরে চিনি অনেক বেশি প্রবেশ করতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে? ডায়াবেটিস রোগী, প্রি-ডায়াবেটিক ব্যক্তি এবং যাঁদের ওজন বেশি তাঁদের এই ফলগুলো খাওয়ার সময় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। একইসঙ্গে সুস্থ মানুষদের ক্ষেত্রেও নিয়ম না মেনে বেশি খেলে সমস্যা হতে পারে।
ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল সবসময় পুরোটা চিবিয়ে খাওয়া ভাল, জুস করে নয়। একসঙ্গে অনেক ফল না খেয়ে পরিমাণে কম খান। ফলের সঙ্গে প্রোটিন বা বাদাম জাতীয় খাবার খেলে চিনির শোষণ ধীরে হয়। ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলের তালিকা ঠিক করা জরুরি।
