আজকাল ওয়েবডেস্ক: মানুষের মৃত্যু মানেই দেহের সব প্রতিক্রিয়া থেমে যাওয়া—এই প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে এক বিরল ও বিস্ময়কর শারীরিক প্রতিক্রিয়া। ফরেনসিক বিজ্ঞানে একে বলা হয় "ডেথ ইরেকশন", বা চিকিৎসা পরিভাষায় পোস্টমর্টেম প্রিয়াপিজম। সাধারণভাবে মৃতদেহে এমন দৃশ্য দুর্লভ হলেও, মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত অথবা মেরুদণ্ডে আঘাতজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, বিশেষ করে ফাঁসিতে ঝোলার পর।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই অবস্থার পেছনে রয়েছে শারীরবৃত্তীয় চাপ এবং স্নায়ুতন্ত্রের জটিল প্রতিক্রিয়া। হঠাৎ করে স্নায়ু ব্যবস্থায় চরম চাপ তৈরি হলে রক্ত নিচের দিকের অঙ্গগুলিতে সঞ্চালিত হয় এবং তার ফলে মৃত ব্যক্তির লিঙ্গে ঘটে এই অস্বাভাবিক উত্থান। এই প্রতিক্রিয়াকে ইতিহাসে একসময় বলা হতো “অ্যাঞ্জেল লাস্ট”, যা শোনা যায় ইউরোপীয় পুরাণ ও মধ্যযুগীয় সাহিত্যেও।

একাধিক ফরেনসিক কেস স্টাডিতে এই ঘটনাকে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ২০০৯ সালে Journal of Forensic Sciences-এ প্রকাশিত গবেষণায় জে. ব্রেইটিঞ্জার জানান, বেশ কয়েকটি অটপসি রিপোর্টে এমন ঘটনার নজির পাওয়া গিয়েছে। তেমনই ২০০৬ সালে The American Journal of Forensic Medicine and Pathology-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় ভারতীয় চিকিৎসক খাজুরিয়া, গোস্বামী এবং সিং একে ‘মস্তিষ্কঘাতজনিত বিরল প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

বিশিষ্ট ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ স্পিট্‌জ তাঁর বিখ্যাত বই Medicolegal Investigation of Death-এ এমন প্রতিক্রিয়াকে "মৃত্যুর পরও জীবনের প্রতিচ্ছবি" বলে আখ্যা দেন। এই ঘটনা যতটা অস্বাভাবিক, ততটাই উদ্বেগজনক এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু এই ‘ডেথ ইরেকশন’ দেখিয়ে দেয়, মৃত্যু সত্ত্বেও শরীরের কিছু অংশ কিভাবে শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।

এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আরও গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা, কারণ এটি শুধুমাত্র শারীরবৃত্তীয় কৌতূহলের বিষয় নয়, অপরাধতদন্তের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করতে পারে।