পশ্চিম এশিয়ায় ইরান–ইজরায়েল উত্তেজনা ও জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কার মধ্যে দেশের খুচরো বাজারে ভোক্তাদের কেনাকাটার ধরণে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় অনেক মানুষ এখন দোকানে ভিড় করছেন ইনডাকশন চুলা কিনতে। কিন্তু একই সময়ে মোবাইল রিটেইল আউটলেটগুলিতে ক্রেতাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
2
10
দেশজুড়ে স্মার্টফোনের চাহিদা লক্ষণীয়ভাবে দুর্বল হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুচরো বিক্রেতারা। দোকানে আগের তুলনায় অনেক কম ক্রেতা আসছেন এবং যারা আসছেন তারাও কেনার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছেন। বিশেষ করে মধ্যম দামি এবং প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে জানুয়ারি–মার্চ ত্রৈমাসিকে স্মার্টফোন শিপমেন্টে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যেতে পারে।
3
10
অল ইন্ডিয়া মোবাইল রিটেলারস অ্যাসোসিশেন জানিয়েছে, এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং ইরান সংঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ক্রেতারা অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে জরুরি পণ্যের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
4
10
সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কৈলাস লাখয়ানি বলেন, “দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত পণ্য—যেমন গ্যাসের অনিশ্চয়তার কারণে ইনডাকশন চুলা, আর গরমের শুরুতে এসি বা ফ্রিজ—এখন ক্রেতাদের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে। অন্যদিকে স্মার্টফোন কেনা অনেকেই পিছিয়ে দিচ্ছেন।”
5
10
তার মতে, বর্তমানে অধিকাংশ মানুষের কাছেই কার্যকর একটি স্মার্টফোন রয়েছে। পাশাপাশি স্মার্টফোনের দাম বাড়ার কারণে ব্যবহারকারীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে একই ফোন ব্যবহার করছেন। ফলে নতুন ফোন কেনার আগ্রহ কমে গেছে।
6
10
রিটেইলারদের দাবি, সাধারণ সময়ে যে পরিমাণ ক্রেতা দোকানে আসেন, এখন তার তুলনায় অনেক কম মানুষ আসছেন। যারা নতুন ফোন কিনতে চাইছিলেন, তারাও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত হওয়ায় কিছুদিন অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
7
10
বাজারে এর প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা যেতে শুরু করেছে। ব্র্যান্ডগুলির শিপমেন্টের পরিসংখ্যান আপাতদৃষ্টিতে স্থিতিশীল মনে হলেও বাস্তবে শেষ গ্রাহকের কাছে বিক্রি বা “সেল-আউট” কমে গেছে। অর্থাৎ ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলে কিছুটা স্টক চলাচল থাকলেও দোকান থেকে সরাসরি ক্রেতাদের হাতে ফোন বিক্রি কমছে।
8
10
খুচরো বিক্রেতারা বলছেন, পরিস্থিতি যদি দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তাহলে মার্চ মাসের বিক্রির পরিসংখ্যানেই এই ধাক্কা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে প্রিমিয়াম ফোনের ক্ষেত্রে বিক্রি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
9
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং গৃহস্থালির খরচের চাপ—এই তিনটি কারণ মিলেই এখন ভোক্তাদের আচরণ বদলে দিচ্ছে। ফলে মানুষ আপাতত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রেই টাকা খরচ করছেন, আর প্রযুক্তি পণ্যের মতো ঐচ্ছিক খরচ সাময়িকভাবে পিছিয়ে দিচ্ছেন।
10
10
এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের স্মার্টফোন বাজারে স্বল্পমেয়াদে চাহিদার গতি আরও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে আবারও ধীরে ধীরে বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ ফিরতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।