ভারতের প্রতিরক্ষায় টেসি থমাস এক অনুপ্রেরণার নাম। ‘মিসাইল ওম্যান অফ ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত এই বিজ্ঞানীর যাত্রা শুরু হয়েছিল কেরলের উপকূলবর্তী ছোট শহর আলাপ্পুঝা থেকে।
2
7
১৯৬৩ সালের এপ্রিল মাসে আলাপ্পুঝায় জন্মগ্রহণ করেন টেসি থমাস। তাঁর বাবা একটি ছোট ব্যবসা চালাতেন। পরিবারে শিক্ষার গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত বেশি। তাঁর বাড়ির কাছেই ছিল তিরুবনন্তপুরমের থুম্বা ইকুয়েটোরিয়াল রকেট লঞ্চিং স্টেশন।
3
7
জানা যায়, তিনি প্রায়ই ভাবতেন, কীভাবে এই যন্ত্রগুলো এত দূর পর্যন্ত উড়তে পারে আকাশে। সেখান থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর কৌতূহল আরও বাড়তে থাকে। এক সময় খুব কম সংখ্যক মহিলা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার পথ বেছে নিতেন।
4
7
সেই সময় টেসি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিং বেছে নেন। ত্রিশূরের গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কলেজ জীবনেই ধীরে ধীরে তাঁর আগ্রহ জন্মায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির দিকে।
5
7
ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর টেসি থমাস ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির দিকেই ঝোঁকেন। তিনি ডিফেন্স ইনস্টিটিউট অব আর্মামেন্ট টেকনোলজিতে (বর্তমানে ডিফেন্স ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড টেকনোলজি) ভর্তি হন। সেখানে তিনি ক্ষেপণাস্ত্রের গাইডেন্স ও কন্ট্রোল সিস্টেম নিয়ে পড়াশোনা করেন।
6
7
১৯৮৮ সালে তিনি ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনে যোগ দেন। এই পদক্ষেপই ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের সূচনা করে। সেখানে তাঁর কাজ করার সুযোগ হয় এপিজে আব্দুল কালামের সঙ্গে।
7
7
পরবর্তীকালে টেসি থমাস ‘অগ্নি’ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন। গাইডেন্স সিস্টেম, নেভিগেশন এবং ফ্লাইট কন্ট্রোল পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেন তিনি। পরে অগ্নি–৪ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রোজেক্ট ডিরেক্টর হন। অগ্নি-৪-এর রেঞ্জ ৪,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি। তাঁর নেতৃত্বে ২০১১ সালে অগ্নি–৪ সফলভাবে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়।