আজকাল ওয়েবডেস্ক: একদিকে বডি পজিটিভিটির কথা বলা হচ্ছে সর্বত্র, অন্যদিকে সমানতালে বাড়ছে শারীরিক গঠন বদলে ফেলার হিড়িক। উচ্চতা অন্যদের চেয়ে কম- এই আক্ষেপ থেকে মুক্তি পেতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে যন্ত্রণাদায়ক অস্ত্রোপচারের পথে হাঁটছেন হাজার হাজার মানুষ। চাহিদা একটাই - লম্বা হতে হবে। তবে কষ্ট হোক বা টাকা খরচ হোক, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৌলতে উচ্চতা বদলে ফেলাও অসম্ভব নয়। কৃত্রিম ভাবে কারও উচ্চতা বৃদ্ধির পদ্ধতির নাম ‘কসমেটিক লিম্ব লেংথেনিং সার্জারি’।

আগে মূলত দুর্ঘটনায় পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিংবা জন্মগত ত্রুটির কারণে দুই পা দু’রকম; এমন ব্যক্তিরাই এই অস্ত্রোপচার করাতেন। কিন্তু আজকাল কেবল মাত্র উচ্চতা নিয়ে হীনম্মন্যতা থেকেই অনেকে বেছে নিচ্ছেন এই পথ।

কীভাবে হয় এই অস্ত্রোপচার?
এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে রোগীর পায়ের ফিমার বা টিবিয়া হাড় কেটে ফেলা হয়। এর পর একটি ধাতব ফ্রেম বসানো হয় সেই কাটা অংশ বরাবর। এই ফ্রেমের সাহায্যে প্রতিদিন ১ মিমি করে ফাঁক করা হয় হাড়। শরীর যেভাবে ভাঙ্গা হাড় জোড়া দেয়, সেই ভাবেই ওই কাটা অংশে হাড় তৈরির উপাদান জমা হয়।

এই ধাপটি ৩ থেকে ৬ মাস ধরে চলে এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হতে এক থেকে দেড় বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফিজিওথেরাপি, পেইনকিলার ওষুধের প্রয়োগ ও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ এসময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কতটা বাড়ানো যায়?
সাধারণত পায়ের হাড় ৫-৬ ইঞ্চি পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। এর বেশি বাড়াতে চাইলে ঝুঁকি অনেক বেশি।

খরচ কত?
এই অস্ত্রোপচারের খরচ দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে। আমেরিকা বা ইউরোপে যেহেতু অনেক বেশি সচেতনতার সঙ্গে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় তাই এই দেশগুলিতে খরচ সবচেয়ে বেশি। ৭৫,০০০ থেকে ২ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬২ লক্ষ থেকে ১.৬ কোটি টাকা) পর্যন্ত। ভারতে খরচ ১৫ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার মতো।

ঝুঁকি ও সতর্কতা
তবে মাথায় রাখতে হবে এটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। এই অস্ত্রোপচারে সংক্রমণ, নার্ভ ড্যামেজ, হাড় না জোড়া লাগা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ইত্যাদির ঝুঁকি খুব বেশি। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জনের পরামর্শ নেওয়াই সর্বোত্তম।