মাথার ওপর রোদ যতই চড়া হোক, বাইরে না বেরিয়ে তো উপায় নেই। নিত্যদিনের নানা কাজের জন্য গরমের মধ্যেই ছুটতে হয়। আর কেবল রোদ নয়, এই ধুলোবালি, আর্দ্রতা, প্যাচপ্যাচে ঘাম শরীরের বেহাল দশা করে ছাড়ে। ডিহাইড্রেশন, মাথা ধরা, পেটের সমস্যার পাশাপাশি ভোগান্তির ভাগীদার হয় ত্বকও। গরম পড়তেই ত্বকের নানা সমস্যা একসঙ্গে হাজির হয়। দিনভর বাইরে থাকার পরে কখনও ঘাড়ে-পিঠে, আবার কখনও হাত-পায়ের খাঁজে উঁকি মারে র্যাশ বা ঘামাচি। সঙ্গে ফুসকুড়ি, চুলকানি, জ্বালাপোড়া, ত্বকে খসখসে ভাব, ব্রণের সমস্যায় নাজেহাল হতে হয়।
গ্রীষ্মকালে কম-বেশি যে কোনও বয়সের মানুষই ত্বকের সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু কেন? আসলে গরমে শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে ঘাম বেশি হয়। এই ঘাম শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করলেও অনেক সময় ঘর্মগ্রন্থির ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঘাম ঠিকভাবে বেরতে পারে না এবং ত্বকের নিচে আটকে যায়। এপ্রসঙ্গে বিশিষ্ট ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অসীম কুমার সরকার বলেন, “গরমে ত্বকে ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহের কারণে জলের মতো ফুসকুড়ি তৈরি হয়। যাকে বলে ঘামাচি বা হিট র্যাশ। চিকিৎসার পরিভাষায় যার নাম ‘মিলিয়ারিয়া’। এতে চুলকানি, জ্বালাপোড়া হতে পারে।”
সাধারণত ঘাড়, পিঠ, বুক, কাঁধ, কোমর, উরু, হাঁটুর ভাঁজ বা যেখানে বেশি ঘাম জমে, সেইসব জায়গায় র্যাশ বেশি দেখা যায়। চিকিৎসকের মতে, এই র্যাশের লক্ষণ সাধারণত খুব সহজে বোঝা যায়। ত্বকে ছোট ছোট লাল দানা, চুলকানি, জ্বালাভাব, হালকা ব্যথা বা ত্বক জ্বলে যাওয়ার অনুভূতি হতে পারে। কখনও কখনও র্যাশ শুকিয়ে খসখসে হয়ে যায়। অনেকেই এটিকে সাধারণ অ্যালার্জি ভেবে অবহেলা করেন, কিন্তু সময়মতো যত্ন না নিলে সংক্রমণও হতে পারে।
গরমের র্যাশের প্রধান কারণ শুধু ঘাম নয়। টাইট বা সিনথেটিক পোশাক, দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, ধুলো-ময়লা, ত্বক পরিষ্কার না রাখা, অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অ্যালার্জিও এই সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।
ডাঃ অসীম কুমার সরকার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘামাচি বা হিট র্যাশ হলে বাড়িতে বরফ লাগাতে পারেন। তবে জ্বালা করলে বা চুলকানি বাড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সেই পরামর্শ মেনে ঘামাচির নির্দিষ্ট পাউডার, ট্রপিক্যাল লেশন, সুদিং ক্যালামিনল জাতীয় লোশন ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি হলে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। ৫-৭ দিনের জন্য অ্যান্টিএলার্জির ওষুধ এবং স্টেরয়েড দেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে রোগীকে লাইফস্টাইল পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
মেনে চলুন
• সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন। বাইরের কাজ বেশি থাকলে ছায়ায় থাকার চেষ্টা করুন। ছাতা ব্যবহার করুন।
• গরমে হাইড্রেশন ঠিক রাখা প্রয়োজন। পুরুষদের ৩ থেকে সাড়ে ৩ লিটার এবং মহিলাদের আড়াই লিটার জল খাওয়া জরুরি।
• রোজ ভালভাবে সাবান দিয়ে স্নান করতে হবে।
• হালকা রঙের হাওয়া চলাচল করে এমন কাপড় পরার চেষ্টা করুন। পারলে ফুলহাতা জামা পরুন। কারণ আমাদের হাতে সূর্যের আলোতে বেশি প্রদাহ বেশি হয়। চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘ফটোডার্মাটাইটিস’।
• ঘামে ভেজা কাপড় বেশিক্ষণ পরে থাকলে র্যাশ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সম্ভব হলে বদলে ফেলার চেষ্টা করুন। ঘামে ভেজা জামা কেচে ব্যবহার করাই ভাল।
• মেকআপ কিংবা যে কোনও প্রসাধনী ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন থাকুন।
• হালকা, সহজপাচ্য খাবার খান। ডায়েটে জল বেশি রয়েছে এমন শাকসবজি বেশি রাখুন।
• চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ কিংবা ক্রিম লাগাবেন না।















