ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাবারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। এটি অবহেলা করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা শরীরের নানা জটিলতার কারণ হতে পারে। অনেক ডায়াবেটিস রোগীই ডাব খাওয়া এড়িয়ে চলেন। কারণ তাঁদের ধারণা যে, এতে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে ডায়াবেটিসে ডাব খাওয়া নিরাপদ কি না, তা নিয়ে এখনও অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। জেনে নেওয়া যাক, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ডাব উপকারী না ক্ষতিকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা খাদ্যতালিকায় ডাব রাখতে পারেন, তবে অবশ্যই পরিমাণের দিকে নজর দিতে হবে। কারণ ডাবে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম এবং এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও তুলনামূলকভাবে কম। ফলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না। পাশাপাশি এতে থাকা ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

অনেকে মনে করেন, ডায়াবেটিস রোগীদের ডাব খাওয়া একেবারেই উচিত নয়, কিন্তু এটি আসলে একটি ভুল ধারণা। সঠিক পরিমাণে খেলে ডাব তেমন কোনও সমস্যা সৃষ্টি করে না। এর লো-জিআই এবং ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া রোধ করে। প্রতিদিন প্রায় দু’তিন টেবিল চামচ বা ৩০–৪০ গ্রাম ডাব খাওয়া যেতে পারে।

ডাবে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, যার ফলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় না এবং তা নিয়ন্ত্রণে থাকে। যেহেতু ডাবের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, তাই এটি খেলে ব্লাড সুগারে বড় কোনও প্রভাব পড়ে না। এই কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের ডাব পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তবে মনে রাখতে হবে, ডাবে ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়তে পারে। ওজন বেড়ে গেলে হৃদস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব পড়ে এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। যদিও ডাবে ফাইবারের পাশাপাশি ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো উপকারী পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এতে থাকা ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি দেয়, ফলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।

এই বৈশিষ্ট্যগুলি বিশেষভাবে উপকারী তাঁদের জন্য, যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ডাবে থাকা মিডিয়াম চেন ফ্যাট শরীরে চর্বি হিসাবে জমা না হয়ে দ্রুত শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

ডাবে আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও থাকে, যা শরীরের নানা প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সঠিকভাবে চালাতে সাহায্য করে। এই কারণে বেশি শর্করাযুক্ত মিষ্টি বা প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকসের তুলনায় ডাবকে একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসাবে ধরা হয়।