আজকাল অকালে চুল পাকার সমস্যা তরুণদের মধ্যে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই সাদা চুল কমানোর আশায় নানা ধরনের তেল, শ্যাম্পু, সিরাম ও ট্রিটমেন্টে হাজার হাজার টাকা খরচ করেন। কিন্তু এত কিছু করার পরও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে না। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, একবার সাদা হয়ে যাওয়া চুল কি আবার কালো হতে পারে? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা জরুরি, যাতে ভুল বা ভ্রান্ত দাবির ফাঁদে পড়ে সময় ও অর্থ নষ্ট না হয়।
মানুষের চুলের রং নির্ভর করে ‘মেলানিন’ নামের একটি রঞ্জক পদার্থের উপর। বয়স বাড়া, জিনগত কারণ, অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিংবা পুষ্টির অভাবে যখন মেলানিনের উৎপাদন কমে যায়, তখন চুল সাদা হতে শুরু করে। যে চুল সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যায়, সেখানে মেলানিন উৎপাদনকারী কোষগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলে প্রাকৃতিক উপায়ে সেই চুল আবার পুরোপুরি কালো করা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে চুল সাদা হওয়ার প্রক্রিয়া থামানো বা ধীর করা সম্ভব।
সাদা চুলের কারণ যদি হয় পুষ্টির অভাব, ভিটামিন বি১২ বা আয়রনের ঘাটতি, কিংবা অতিরিক্ত স্ট্রেস, তাহলে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন গজানো চুলের স্বাভাবিক রং বজায় রাখা যেতে পারে। কিন্তু যে চুল ইতিমধ্যেই সাদা হয়ে গিয়েছে, তার রং ফিরে আসা খুবই বিরল। বাজারে পাওয়া বহু পণ্য ও ঘরোয়া টোটকা এই বিষয়ে ভুয়ো দাবি করে থাকে। পাশাপাশি অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার ডাই ব্যবহার করলে চুল ও স্ক্যাল্পের ক্ষতিও হতে পারে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, অল্প বয়সে চুল সাদা হলে তার প্রকৃত কারণ খুঁজে বার করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে রক্তপরীক্ষা, ডায়েট অ্যানালিসিস এবং লাইফস্টাইল রিভিউ করা যেতে পারে। যদি কোনও নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যার কারণে চুল সাদা হয়, তবে সেই সমস্যার চিকিৎসা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব এবং ভবিষ্যতে আরও চুল সাদা হওয়া রোধ করা যেতে পারে। তবে একবার পুরোপুরি সাদা হয়ে যাওয়া চুলকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কালো করা সম্ভব নয়। তাই ভুল প্রতিশ্রুতিতে টাকা খরচ না করে সঠিক তথ্য জেনে পুষ্টির দিকে নজর দেওয়া এবং চুলের যথাযথ যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
