আমাদের রোজকার নানা অভ্যাস সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। অজান্তে খারাপ অভ্যাস কখন যে শরীরের বারোটা বাজায় তা অনেক সময় বোঝা যায় না। তাই সুস্থ থাকতে গেলে কিছু খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে থাকা খুবই জরুরি। আর এরই মধ্যে এমন একটি অভ্যাস রয়েছে যা শরীরের প্রায় অঙ্গের ক্ষতি করে, এমনই সতর্কবার্তা দিলেন প্রায় ২৫ বছরের অভিজ্ঞ হৃদরোগ সার্জন ডাঃ জেরেমি লন্ডন। আর সেই অভ্যাস হল ধূমপান।


সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন সিগারেট শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করে। কিন্তু বাস্তবে ধূমপানের প্রভাব তার থেকেও অনেক বেশি। সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক শরীরে ঢুকে রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছে যায় এবং ধীরে ধীরে সেগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করে।


চিকিৎসকের কথায়, ধূমপান হৃদযন্ত্রের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর। এটি রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রক্ত চলাচলে সমস্যা তৈরি করে। ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধূমপান করলে হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে এবং গুরুতর হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।


শুধু হৃদযন্ত্রই নয়, ধূমপানের প্রভাব শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও পড়ে। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যায়, শ্বাসকষ্ট হতে পারে এবং ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি লিভার, কিডনি ও মস্তিষ্কের ওপরও এর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।


ডা. লন্ডন আরও জানান, বর্তমানে অনেকেই ই-সিগারেট বা ভ্যাপিংকে তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এগুলিও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। কারণ এতে থাকা নিকোটিন ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ শরীরে ঢুকে একইভাবে ক্ষতি করতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে হলে ধূমপানের মতো অভ্যাস যত দ্রুত সম্ভব ছেড়ে দেওয়া উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম নেওয়াও খুব গুরুত্বপূর্ণ।


চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ জীবনযাপন করলে হৃদরোগ সহ অনেক বড় রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে চাইলে ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে ভাল উপায়।