আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান-ইজরায়েল হামলায় মৃত্যু হয়েছে খামেনেইয়ের। খামেনেই মৃত্যুতে কেন নীরব ভারত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল গত কয়েকদিন ধরে।
তবে বৃহস্পতিবার, আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে ভারত। দেশের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী বৃহস্পতিবার দিল্লিতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসে যান। দেশের পক্ষ থেকে শোকপ্রকাশ করেন। শোকপত্রে সাক্ষর করেন বলেও জানা গিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনেইকে "ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তিদের একজন" বলে অভিহিত করেছেন। এরপর কোনও জি-৭ ভুক্ত রাষ্ট্র খেমানেই-এর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেনি। অর্থাৎ উন্নত দেশগুলো একসুরে কথা বলছে বলে অভিযোগ উঠেছিল।
মোদির ণীরবতা কেন? প্রশ্নের মাঝেই বড় বৃহস্পতিবার ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রি বলেন, 'ভারত নিয়মতান্ত্রিক শাসন, আলোচনা এবং কূটনীতিতে বিশ্বাসী।' যুদ্ধ আবহের মাঝে দাঁড়িয়ে তাঁর এই বার্তাও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত একাংশের।
এদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, সামরিক সংঘাত কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা ভয়াবহ সংঘর্ষের আবহে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের উপস্থিতিতে মোদি বলেন, “ভারত ও ফিনল্যান্ড উভয় রাষ্ট্রই আইনের শাসন এবং কূটনীতিতে বিশ্বাসী। ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া- কেবল সামরিক লড়াই কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না। আমরা দুজনেই একমত যে, বর্তমান বিশ্বে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
গত সপ্তাহান্তে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই-র মৃত্যুর পর থেকেই কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্য এশিয়া। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার উপকূলে ইরানের নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইরিস ডেনা’র ওপর আছড়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্র। ভয়াবহ এই হামলায় জাহাজটির কয়েক ডজন ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। ইরান প্রশাসনের দাবি, জাহাজটি ভারতের 'আমন্ত্রণে' যোগ দিতে এসছিল। এদিকে নয়াদিল্লি সূত্রে খবর, গত ১৬ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাহাজটি বিশাখাপত্তনমে ‘আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউ’-তে অংশ নিয়েছিল এবং সেই সময়টুকুই তারা ভারতের আতিথেয়তায় ছিল। এরপর ভারতের কাছে কোনও সহায়তার আবেদন জানানো হয়নি।
