জরুরি টাকার প্রয়োজন হলে অনেকেই সোনার গয়না বন্ধক রেখে গোল্ড লোন নেন। এই ধরনের ঋণ দ্রুত পাওয়া যায় এবং কাগজপত্রও তুলনামূলক কম লাগে। কিন্তু অনেকেই জানেন না সময়মতো ঋণ শোধ না করলে ব্যাঙ্ক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি সেই বন্ধক রাখা সোনা নিলামে বিক্রি করতে পারে। তাই গোল্ড লোন নেওয়ার আগে বেশ কয়েকটি নিয়ম জানা খুবই জরুরি।
2
10
গোল্ড লোন নেওয়ার সময় গ্রাহক তাঁর সোনার গয়না ব্যাঙ্ক বা এনবিএফসি-র কাছে জমা রাখেন। সেই সোনার মূল্য অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়।
3
10
সাধারণত সোনার বাজারদামের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়। ঋণের সঙ্গে সুদও ধার্য থাকে, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শোধ করতে হয়।
4
10
যদি গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ এবং সুদ শোধ না করেন, তাহলে সেটিকে লোন ডিফল্ট বলা হয়। এই অবস্থায় ব্যাঙ্ক প্রথমে গ্রাহককে ফোন, মেসেজ বা লিখিত নোটিস দিয়ে ঋণ শোধ করার জন্য সতর্ক করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রাহককে টাকা জোগাড় করে ঋণ মিটিয়ে ফেলার জন্য কিছু অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়।
5
10
তারপরও যদি ঋণ শোধ না হয়, তাহলে ব্যাঙ্ক আইনি নিয়ম মেনে বন্ধক রাখা সোনা নিলামে তুলতে পারে। নিলামের আগে সাধারণত গ্রাহককে আগাম নোটিস দেওয়া হয়।
6
10
নিলামের বিজ্ঞাপন অনেক সময় সংবাদপত্রেও প্রকাশ করা হয়, যাতে পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকে।
7
10
নিলামে সোনা বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, তা দিয়ে প্রথমে ঋণের মূল টাকা, সুদ এবং অন্যান্য চার্জ কেটে নেওয়া হয়। যদি নিলামে বেশি দাম পাওয়া যায়, অর্থাৎ ঋণের টাকার চেয়ে বেশি অর্থ আসে, তাহলে সেই অতিরিক্ত টাকা গ্রাহককে ফেরত দেওয়া হয়।
8
10
আবার যদি নিলামে কম দাম পাওয়া যায়, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে বাকি টাকার জন্য গ্রাহকের কাছেও দাবি করা হতে পারে।
9
10
তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোল্ড লোন নেওয়ার আগে ভালভাবে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। ঋণের সুদের হার, সময়সীমা এবং শোধ করার পরিকল্পনা পরিষ্কার না থাকলে পরে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। কারণ অনেক সময় মানুষ সাময়িক টাকার চাপে সোনা বন্ধক রাখলেও পরে ঋণ শোধ করতে না পেরে প্রিয় গয়না হারান।
10
10
মনে রাখবেন, গোল্ড লোন জরুরি অবস্থায় উপকারী হলেও সময়মতো ঋণ শোধ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে ব্যাঙ্ক আইন অনুযায়ী সেই সোনা নিলামে বিক্রি করে দিতে পারে।