সাম্প্রতিককালে 'হার্বাল টি'-এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। অনেকেই সকালে বা রাতে 'হার্বাল টি', 'ডিটক্স টি', 'ফুলের চা'-এর মতো ভেষজ চা পান করেন। এতদিন বাজারে এগুলো সহজেই 'চা' নামে বিক্রি হয়ে আসছিল। কিন্তু এবার এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিল এফএসএসএআই (ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া) অর্থাৎ খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা। সব পানীয়কে আর ‘চা’ বলা যাবে না, জানিয়েছে সংস্থা।
এফএসএসএআই-এর নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস নামের একটি বিশেষ গাছের পাতা থেকে তৈরি পানীয়কেই আইনগতভাবে ‘চা’ বা বলা যাবে। এই গাছ থেকেই তৈরি হয় পরিচিত ব্ল্যাক টি, গ্রিন টি, ওলং চা। এই চাগুলোকেই একমাত্র আসল চা হিসেবে ধরা হবে।
তাহলে হার্বাল টি কী? যে পানীয়গুলো তুলসী, আদা, ক্যামোমাইল, দারচিনি, লেমন গ্রাস, গোলাপের পাপড়ি বা অন্য কোনও গাছ-ফুল-পাতা দিয়ে তৈরি সেগুলো আসলে চা নয়। এগুলোকে এখন থেকে বলা হবে হার্বাল ইনফিউশন, বোটানিক্যাল ড্রিঙ্ক, প্ল্যান্ট-বেসড বেভারেজ। কিন্তু 'চা' শব্দটি ব্যবহার করা যাবে না।
এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, খাবার বা পানীয়ের প্যাকেটের সামনে সঠিক নাম লিখতে হবে। হার্বাল বা ফুল দিয়ে তৈরি পানীয় হলে সেখানে 'চা' লেখা যাবে না। ভুল নাম ব্যবহার করলে সেই পণ্যকে বিভ্রান্তিকর বলে ধরা হবে। এই নিয়ম শুধু দোকানে নয়, অনলাইন শপিং সাইটগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
ব্যবসায়ীদের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, যাঁরা চা তৈরি, প্যাকেজিং বা বিক্রি করেন, তাঁদের নতুন নিয়ম মানতেই হবে। ভুলভাবে 'চা' লিখে বিক্রি করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ভোক্তাদের ভুল তথ্য দেওয়া চলবে না।
কেন এই নিয়ম এত জরুরি? এফএসএসএআই-এর মতে, এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হল গ্রাহকদের বিভ্রান্তি দূর করা। নেক মানুষ ভাবেন হার্বাল টি-ও সাধারণ চায়ের মতোই, কিন্তু বাস্তবে এর উপাদান ও গুণাগুণ আলাদা। এক্ষেত্রে সঠিক নাম জানলে মানুষ বুঝতে পারবেন কী পান করছেন, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ভুল ধারণা কমবে, খাবার সংক্রান্ত স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
আসলে হার্বাল পানীয় খারাপ নয়, অনেক ক্ষেত্রেই উপকারী। কিন্তু সেগুলোকে ভুলভাবে ‘চা’ বলা ঠিক নয়। এই নতুন নিয়মের ফলে এখন থেকে ভারতে ‘চা’ মানে সত্যিকারের চা, আর বাকি সব হবে আলাদা পরিচয়ে।
