বিশ্বের এক অন্যতম রহস্যময় হিরে হল 'কালো অরলভ ডায়মন্ড', যা 'অভিশপ্ত হিরে' হিসেবেও পরিচিত। এর ইতিহাস ও মালিকদের জীবন ঘিরে রয়েছে বহু কাহিনি। আজও মানুষের মনে কৌতূহল বাড়িয়ে রাখে এই হিরে। অনেকে এই হিরেটির নাম 'আই অফ ব্রহ্ম ডায়মন্ড' হিসেবেও জানেন।
কথিত রয়েছে, ১৮০০-এর দশকে এই হিরেটি ভারতের একটি মন্দির থেকে চুরি করা হয়। মন্দিরে এটি দেবতার মূর্তির চোখ হিসেবে রাখা ছিল। হিরের ওজন ছিল প্রায় ১৯৫ ক্যারেট এবং এটি সম্পূর্ণ কালো রঙের। চুরির পর এই হিরে বিভিন্ন দেশে চলে আসে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর গল্পও রহস্যময়ভাবে বাড়তে থাকে।
হিরেটির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল তার অভিশাপের কাহিনি। প্রচলিত রয়েছে, যারা এই হিরের মালিক হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকে অনেকেই রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন। ১৯৩২ সালে এক ইউরোপীয় হিরে ব্যবসায়ী হিরেটি কিনেছিলেন। তিনি হঠাৎ আত্মহত্যা করেন। পরবর্তীকালে হিরেটি দুই রাশিয়ান রাজকন্যার দখলে আসে। কথিত রয়েছে, তারাও হিরের কারণে অকাল মৃত্যুর মুখে পড়েন।
এই ঘটনাগুলো হিরের সঙ্গে কোনও ধরনের অশুভ শক্তি বা অভিশাপ জড়িয়ে আছে বলে মানুষ মনে ভয় ধরিয়েছে। তবে ইতিহাসবিদরা মনে করেন, এসব কেবল লোককাহিনি বা দুর্ঘটনা মাত্র।
১৯৫০-এর দশকে এক ব্যক্তি হিরেটিকে তিন ভাগে ভাগ করে অভিশাপ ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন। হিরের সবচেয়ে বড় অংশ প্রায় ৬৭.৪৯ ক্যারেট ওজনের ছিল। এই অংশটি পরে নেকলেসে সেট করা হয়। হিরেটি কাটার ফলে অনেকে বিশ্বাস করেছিল যে হিরের অভিশাপ কিছুটা কমেছে। এরপর ২০০৬ সালে এটি নিলামে বিক্রি হয় এবং এখনও অনেক সংগ্রাহক ও রত্নপ্রেমীদের মধ্যে হিরেটিকে ঘিরে কৌতূহল রয়েছে।
'কালো অরলভ ডায়মন্ড' বা 'আই অফ ব্রহ্ম ডায়মন্ড' শুধু এটি মূল্যবান হিরে নয়, এর সঙ্গে ইতিহাস, কুসংস্কার এবং রহস্যের মোড়া গল্প জড়িত। যারা রহস্যময় গল্প ও রত্ন পছন্দ করেন, তাদের কাছে এটি আজও এক অবিস্মরণীয় বস্তু।
