দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে ধারণা ছিল, কম ফ্যাটযুক্ত খাবার সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। সেই কারণে অনেকেই স্কিম মিল্ক বা ফ্যাট ফ্রি দুধ বেছে নেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই পুরো দুধ স্কিম মিল্কের চেয়ে বেশি উপকারী হতে পারে। আসলে স্কিম মিল্কে ফ্যাট কম থাকলেও তা সব সময় শরীরের জন্য ভাল ফল দেয় না। বরং পুরো দুধ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পুষ্টি শোষণে বেশি সাহায্য করে।
স্কিম মিল্কে কী সমস্যা? স্কিম মিল্ক তৈরির সময় দুধের প্রাকৃতিক ফ্যাট আলাদা করে ফেলা হয়। এই ফ্যাটের সঙ্গে সঙ্গে দুধের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানও কমে যায়। বিশেষ করে ভিটামিন এ ও ভিটামিন ডি, যেগুলো শরীর ঠিকভাবে শোষণ করতে ফ্যাট প্রয়োজন হয়। অনেক সময় এই ভিটামিনগুলো পরে কৃত্রিমভাবে স্কিম মিল্কে যোগ করা হয়। কিন্তু ফ্যাট না থাকায় শরীর সেগুলো ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না। ফলে স্কিম মিল্ক দেখতে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও, বাস্তবে তার পুষ্টিগুণ পুরো দুধের তুলনায় কম হয়।
কেন পুরো দুধ ভালো? বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো দুধে দুধের স্বাভাবিক গঠন বজায় থাকে। এতে থাকা ফ্যাট শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী। পুরো দুধ থেকে কী কী উপকার পেতে পারেন, জেনে নিন-
ব্লাড সুগার স্পাইক কম হয়: পুরো দুধে থাকা ফ্যাট ও প্রোটিন একসঙ্গে কাজ করে, যার ফলে রক্তে শর্করা ধীরে ধীরে বাড়ে। এতে হঠাৎ সুগার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে: পুরো দুধ খেলে তাড়াতাড়ি খিদে পায় না। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
ভিটামিন শোষণ ভাল হয়: ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে-এই সব ভিটামিন শরীরে ঠিকভাবে কাজ করতে ফ্যাটের প্রয়োজন। পুরো দুধে এই সুবিধা প্রাকৃতিকভাবেই থাকে।
কম প্রক্রিয়াজাত: পুরো দুধ সাধারণত কম প্রক্রিয়াকরণ করা হয়, তাই এটি বেশি প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর।
কারা সাবধান থাকবেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের কোলেস্টেরল বেশি, ওজনজনিত সমস্যা বা বিশেষ রোগ রয়েছে ক্ষেত্রে পুরো দুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সব সময় কম ফ্যাট ই ভাল, ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিমাণে পুরো দুধ অনেকের স্কিম মিল্কের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর হতে পারে। তাই দুধ বাছার সময় শুধু ফ্যাট নয়, পুরো পুষ্টির দিকটি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
