আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেশ কিছুদিন আগে এক দম্পতির ব্যক্তিগত সমস্যা সামনে আসে এক বিশেষজ্ঞের কাছে। সমস্যাটি শারীরিক নয়—মানসিক ও যোগাযোগজনিত। ভদ্রলোকের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত মার্জিত ও রুচিশীল হলেও সহবাসের সময় আপত্তিকর, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করতেন। এতে তিনি অস্বস্তি তো বোধ করতেনই, কখনও কখনও অপমানিতও লাগত তাঁর। ধীরে ধীরে তিনি সহবাস থেকেই মুখ ফিরিয়ে নেন। মূলত স্ত্রীর এই আচরণের কারণ জানতেই তিনি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সমস্যা আজকাল খুব একটা বিরল নয়। সহবাসের সময় যৌন তৃপ্তি বাড়াতে অনেকেই ‘ডার্টি টক’ বা উত্তেজনামূলক ভাষা ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। শুনতে বিস্ময়কর হলেও, গবেষণায় দেখা গিয়েছে—এই ধরনের কথোপকথনের সঙ্গে যৌন সন্তুষ্টির সরাসরি যোগ রয়েছে। দাম্পত্য জীবনের নানা যৌন সমস্যায় সেক্স থেরাপিস্টরা প্রায়শই দম্পতিদের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন। সেই যোগাযোগেরই একটি রূপ হতে পারে এই কথাবার্তা।

রেড বুক ম্যাগাজ়িনে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় বহু মহিলা জানিয়েছেন, সঙ্গীর কাছে নিজেদের যৌন ভাবনা খোলাখুলি জানাতে পারায় সহবাস তাঁদের কাছে আরও উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করছেন—সহবাস চলাকালীন সাধারণ যৌন উত্তেজনামূলক কথা আর ‘ডার্টি টক’-এর মধ্যে পার্থক্য আছে। যৌন ক্রিয়া বা কল্পনার বর্ণনায় আপত্তিকর, অশ্লীল শব্দের প্রয়োগ থাকলেই তাকে ‘ডার্টি টক’ বলা যায়।

সমাজে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, মহিলারা এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে বা শুনতে পছন্দ করেন না। কিন্তু বাস্তবচিত্র বদলেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে, দু’পক্ষের মধ্যেই এই বিষয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা—যদি দম্পতির দু’জনেই এতে স্বচ্ছন্দ হন, সমস্যা নেই। কিন্তু কোনও একজন যদি অপমানিত বা অস্বস্তি বোধ করেন, তাহলে অপরপক্ষের দায়িত্ব বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা।

একই সঙ্গে এটাও সত্যি, সঙ্গী যদি এই ধরনের কথাবার্তায় মানসিকভাবে উত্তেজিত হন, তাহলে সেটিও আলোচনা করে বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। কারণ এই কথোপকথন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পরিসরে, মুহূর্তের আবেগে বলা হয়। তবুও সমস্যা মিটে না উঠলে বিশেষজ্ঞরা একটি ব্যবহারিক পরামর্শ দিচ্ছেন—দু’জনে মিলে সহবাসে ব্যবহৃত কিছু সাধারণ শব্দ লিখে নেওয়া, তারপর আলাদা করে কোন শব্দ বা অভিব্যক্তি গ্রহণযোগ্য, কোনটি নয়, তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা।

অল্প পরিশ্রমের এই প্রক্রিয়ায় দম্পতির মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। সম্পর্কের স্বস্তি ও সম্মান বজায় রাখতে পারস্পরিক সম্মতি ও যোগাযোগই শেষ কথা।