আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের বড় আবিষ্কার, এবার মহাকাশের কক্ষপথেও নজরদারি চালাবে দেশ। যাকে বলা হয়ে থাকে কক্ষপথে স্ন্যুপিং, এবার তাই করবে ভারত। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর তেমনটাই। তথ্য, আহমেদাবাদ-ভিত্তিক আজিস্তা ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেড তার এরোপ্সেস ভার্টিক্যালের মাধ্যমে অন্য একটি উপগ্রহ থেকে কক্ষপথ এবং সেখানে উপস্থিত যে কোনও বস্তুর ছবি তোলার জন্য একটি নতুন স্বদেশী ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, যা কোনও ভারতীয় বেসরকারি খাতের জন্য প্রথম এবং ভারতের মহাকাশ পরিস্থিতিগত সচেতনতা জোরদার করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। 

৮০ কিলোগ্রামের পৃথিবী-পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ AFR ব্যবহার করে, আজিস্তা ৩ ফেব্রুয়ারি দুটি পরিকল্পিত পরীক্ষার সময় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS)-এর ছবি সফলভাবে তুলতে পেরেছে। যদিও ISS নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে সবচেয়ে দৃশ্যমান এবং সহযোগিতামূলক লক্ষ্যবস্তুগুলির মধ্যে একটি,তবু ভারতের এই আবিষ্কার নিয়ে চর্চা এই মুহূর্তে নানা স্তরে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, দুটি ভিন্ন সময়ে, দুটি ছবি তোলা হয়েছে এই মাধ্যমে। প্রথমবার পাসটি প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরত্বে ছবি তুলতে সক্ষম হয়, তারপরে দ্বিতীয়টি প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার দূরত্বে।দুটি ক্ষেত্রেই, AFR উপগ্রহের সেন্সরকে দ্রুত গতিশীল ISS ট্র্যাক করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তথ্য, প্রায় ২.২ মিটার ইমেজিং নমুনা সহ মোট ১৫টি স্বতন্ত্র ফ্রেম ক্যাপচার করা হয়েছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, দুই ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন দূড়ত্ব থেকে পৃথক ছবি তোলার বিষয়ে, দুই ক্ষেত্রেই সাফল্য এসেছে ১০০ শতাংশ, এর ট্র্যাকিং অ্যালগরিদম এবং ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ইমেজিং নির্ভুলতা যাচাই করেছে বলেও জানা গিয়েছে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধত্যম সূত্রে খবর, এই কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর, আজিস্তার ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রীনিবাস রেড্ডি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, AFR উন্নত ইমেজিং এবং রিমোট-সেন্সিং সমাধান-সহ একাধিক গ্রাহককে সমর্থন করে এবং এখন সম্পূর্ণরূপে দেশীয় সিস্টেম ব্যবহার করে নন-আর্থ ইমেজিং (NEI)প্রদর্শন করেছে। এই প্রযুক্তিগুলি কক্ষপথে বস্তুর সুনির্দিষ্ট ট্র্যাকিং এবং চরিত্রায়ন সক্ষম করে। সঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।

ভারত বর্তমানে ৫০টিরও বেশি উপগ্রহ পরিচালনা করে, যার সম্মিলিত মূল্য ৫০,০০০ কোটি টাকারও বেশি। এই উপগ্রহগুলি যোগাযোগ, নেভিগেশন, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ এবং কৌশলগত প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিস্তৃত। এই সম্পদগুলিকে রক্ষা করার জন্য, এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়কালে, কক্ষপথে অন্যান্য উপগ্রহগুলি কী করছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।
যদিও ISRO এর আগেও এই ধরনের ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। Azista-এর প্রচেষ্টা বেসরকারি খাত দ্বারা চালিত একটি নতুন পদ্ধতির নতুন রাস্তা খুলে দেয়।