আধুনিক জীবনযাপন, জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে পেটে ময়লা জমা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা এখন খুবই সাধারণ হয়ে উঠেছে। বেশি তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া এবং সবুজ শাকসবজি কম খাওয়ার ফলে শরীরে টক্সিন জমতে থাকে। পেট ঠিকমতো পরিষ্কার না হলে শুধু কোষ্ঠকাঠিন্যই নয়, বরং ওজন বৃদ্ধি, সারাক্ষণ ক্লান্তি, ত্বকের সমস্যা এবং শরীরে ফোলাভাবের মতো নানা অসুবিধা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত খেলে পেটে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হতে পারে এবং হজমশক্তি উন্নত হয়।
পুষ্টিবিদ কামিনী সিনহা জানিয়েছেন, আমলকি পেট পরিষ্কার করার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এটি ভিটামিন সি-এর দারুণ উৎস এবং এতে প্রচুর ফাইবার রয়েছে। আমলকি হজমশক্তি বাড়াতে ও অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। সকালে খালি পেটে এক চামচ আমলকির রস বা কয়েকটি কাঁচা আমলকি খেলে পেটে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হতে পারে।
পেঁপে হজমের জন্য অন্যতম সেরা ফল হিসাবে পরিচিত। এতে প্যাপেইন নামের একটি এনজাইম থাকে, যা খাবার দ্রুত হজম করতে এবং পেটে জমে থাকা বর্জ্য বার করে দিতে সাহায্য করে। পেঁপে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে এবং পেট হালকা লাগে। এতে জলের পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরের হাইড্রেশনও ঠিক থাকে। দিনে আধা কাপ পেঁপে খেলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়।
ডায়েটিশিয়ানদের মতে, আপেলে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়, দু’ধরনেরই ফাইবার থাকে। সলিউবল ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে, আর অদ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সহায়ক। প্রতিদিন এক বা দু’টি আপেল খেলে হজমশক্তি ঠিক থাকে এবং শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যায়। পাশাপাশি আপেলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্রের জন্যও উপকারী।
মুগ ডালকে হালকা ও সহজপাচ্য ডাল হিসাবে ধরা হয়। এতে পর্যাপ্ত ফাইবার এবং প্রোটিন থাকে, যা পেট পরিষ্কার রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। সেদ্ধ করে বা স্যুপ আকারে মুগ ডাল খেলে হজম ভাল হয় এবং পেট পরিষ্কার থাকে। এই ডালে থাকা পুষ্টিগুণ শরীরের এনার্জি বজায় রাখে এবং লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতাও উন্নত করে।
পেট পরিষ্কার রাখতে দইও খুব উপকারী। দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক বা ভাল ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটাকে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন দই খেলে হজম ভালো থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে। এটি গ্যাস ও পেট ফোলাভাব কমাতেও সহায়ক। চাইলে দইয়ের সঙ্গে ফল বা সামান্য হলুদ মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে, এতে উপকারিতা আরও বাড়ে।
ডাবের জল শরীরে জলের ঘাটতি ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি হালকা ডিটক্সের কাজ করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে গরমকালে সকাল-সন্ধ্যায় ডাবের জল পান করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং হজমতন্ত্র মজবুত হয়। এতে থাকা মিনারেল পেট পরিষ্কার করার পাশাপাশি ক্লান্তি ও দুর্বলতাও কমায়।
পালং শাক, মেথি, সর্ষে ও ধনেপাতার মতো সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। নিয়মিত এগুলি খেলে পেটে জমে থাকা ময়লা বেরিয়ে যায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে স্বস্তি মেলে। সবুজ শাকসবজিতে থাকা ভিটামিন ও মিনারেল শরীরকে শক্তি জোগায় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। স্যুপ, স্যালাড বা হালকা রান্না করে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এগুলি রাখা উচিত।
