যুগের পর যুগ ধরে পুজো দেওয়ার সময় ঘণ্টা বাজানোর রীতি প্রচলিত রয়েছে। ঘণ্টাধ্বনি ছাড়া মন্দিরের পরিবেশ যেন অসম্পূর্ণ। বাড়িতেও সকালে কিংবা সন্ধ্যা আরতিতে ঘণ্টা বাজানো হয়।
2
9
ঘণ্টা বাজানো শুধু সাধারণ রীতি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আধ্যাত্মিক বিশ্বাস, মানসিক প্রশান্তি ও জ্যোতিষীয় ধারণার সমন্বয়। তাই বহু দিন ধরে এই প্রথা আজও সমান গুরুত্ব নিয়ে চলে আসছে।
3
9
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মন্দিরে ঢোকার সময় ঘণ্টা বাজানো মানে ঈশ্বরকে নিজের উপস্থিতির কথা জানানো। মনে করা হয়, ঘণ্টার শব্দে দেবতার কৃপা আকৃষ্ট হয়।
4
9
একই সঙ্গে ঘণ্টাধ্বনি চারপাশের নেতিবাচক শক্তিকে দূরে সরিয়ে মন্দিরে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে। তাই বহু মানুষ বিশ্বাস করেন, ঘণ্টা না বাজিয়ে পুজো সম্পূর্ণ হয় না।
5
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘণ্টার ধ্বনি আমাদের মনের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। সারাদিন নানা চিন্তা, কাজের চাপ ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় সকলকে। মন্দিরে কিংবা বাড়িতে পুজোর সময় ঘণ্টার ধ্বনি মনকে ধীরে ধীরে শান্ত করে। বাইরের দুশ্চিন্তা থেকে সরে এসে পুজো ও প্রার্থনায় মনোযোগ বাড়ে।
6
9
জ্যোতিষশাস্ত্রে ঘণ্টার গুরুত্ব আরও গভীর। সাধারণত মন্দিরের ঘণ্টা পিতল, কাঁসা বা ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি হয়। এই ধাতুগুলির সঙ্গে বিভিন্ন গ্রহের শক্তির যোগ রয়েছে।
7
9
জ্যোতিষ মতে, ঘণ্টাধ্বনি বৃহস্পতি গ্রহের শুভ প্রভাবকে সক্রিয় করে। বৃহস্পতি গ্রহকে জ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা ও শুভ চিন্তার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। নিয়মিত ঘণ্টা বাজালে মানসিক স্থিরতা ও ইতিবাচক মনোভাব বাড়ে বলে বিশ্বাস।
8
9
এছাড়াও জ্যোতিষীদের মতে, ঘণ্টার তীক্ষ্ণ কিন্তু মধুর শব্দ রাহু ও কেতুর মতো ছায়াগ্রহের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। যাঁরা অকারণে ভয়, অস্থিরতা বা মানসিক চাপ অনুভব করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ঘণ্টাধ্বনি কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পারে।
9
9
মন্দিরে প্রবেশের আগে ঘণ্টা বাজানোকে এক ধরনের মানসিক শুদ্ধিকরণ হিসেবেও দেখা হয়। এতে বোঝানো হয়, ভক্ত দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি ও সমস্যা বাইরে রেখে ঈশ্বরের সামনে আসছেন। মন, শরীর ও আত্মা-তিনটিকেই পুজোর জন্য প্রস্তুত করার প্রতীক এই ঘণ্টাধ্বনি।