জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান এই সহজ সত্যটি নিয়ে যতই বিতর্ক করুক না কেন, এর সবচেয়ে জোরালো স্বীকৃতি এসেছে ইসলামাবাদের অন্যতম বিশ্বস্ত মিত্র এবং বৃহত্তম পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে।
2
9
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় ভারতের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। তাতে ভারতীয় ভূখণ্ড স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই মানচিত্রে, ভারতের উত্তরপ্রান্তে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর মধ্যেই পাকিস্তানের অবৈধভাবে দখলকৃত অংশ বা পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরও অন্তর্ভুক্ত।
3
9
কোনও অতিরঞ্জন নয়, বরং বাস্তব তথ্যই ওয়াশিংটনের অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে। ওয়াশিংটন এই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আমেরিকান নেতৃত্ব ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আমেরিকা বাস্তবতাকে সমর্থন করে এবং পাকিস্তানের ভিত্তিহীন আঞ্চলিক দাবিকে খারি করেছে।
4
9
পাকিস্তানের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি: এটি ইসলামাবাদের জন্য বিশাল বিব্রতকর পরিস্থিতি। পাকিস্তান সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, মার্কিন ক্ষমতার কেন্দ্রে তদবির করার জন্য ওয়াশিংটনে একাধিকবার সফর করেছেন। তবে এতেও মানচিত্র ইস্যুতে পাক দাবিকে তেমন আমল দিল না ওয়াশিংটন। পাকিস্তানের কয়েক দশক ধরে প্রচারিত আঞ্চলিক মিথ্যাকে মান্যতা দেয়নি আমেরিকা।
5
9
ইসলামাবাদের সর্বশেষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রতিবেশী দেশটির ক্ষমতার সমীকরণে পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিয়েছে। ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে যে, আসিম মুনির নির্বাচিত নেতৃত্বকে পাশ কাটিয়ে নিজেকে পাকিস্তানের একছত্র নেতা হিসেবে ঘোষণা করার চেষ্টা করছেন।
6
9
তবে, এটাও মনে রাখার যে- পাকিস্তানে মার্কিন স্বার্থ এখনও অনেক বেশি। বিশেষ করে বিরল খনিজ এবং সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির দিকে তাদের মনোযোগ রয়েছে। কিন্তু এর জেরে কাশ্মীর নিয়ে পাক অযৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার কোনও যুক্তি খুঁজে পায়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এতেই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।
7
9
সম্ভবত সবচেয়ে বড় বার্তাটি হল, পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আগ্রহের কেন্দ্র হতে পারে, কিন্তু ভারতের কোনও বিকল্প নেই। ভারতের ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্ব সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনৈতিক আঘাত, ইসলামাবাদের সবচেয়ে শক্তিশালী সরকারি কার্যালয়গুর ঘুম উড়িয়েছে।
8
9
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি: ভারতের এই মানচিত্রটি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের তরফে শেয়ার করা একটি গ্রাফিক্সের অংশ ছিল, যেখানে মার্কিন রপ্তানির উপর ভারতের শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি দেখানো হয়েছে। গ্রাফটিতে দেখানো হয়েছে যে, নতুন যৌথ কাঠামো অনুযায়ী ভারত যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার বা হ্রাস করবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন গাছের বাদাম, লাল জোয়ার, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, শুকনো ডিস্টিলার্স গ্রেইন এবং আমেরিকান ওয়াইন ও স্পিরিটস।
9
9
এছাড়াও, ওয়াশিংটন ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে এবং অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছে।