ক্যালোরি কমানোর কথা এলেই অনেকেই প্রথমে চিনি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেই সঙ্গে একটি বড় প্রশ্ন উঠে আসে, প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি ফলের ক্ষেত্রেও কি একই নিয়ম প্রযোজ্য? ফলেও তো চিনি আছে, তাহলে কি ডায়েট বা সুগার রিসেটের সময় ফল খাওয়াও বন্ধ করা উচিত? এই বিষয়টি নিয়েই স্পষ্ট ধারণা দিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজিস্ট ডা. সৌরভ সেঠি। এইমস, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই চিকিৎসকের মতে, ফলের চিনি আর বাইরে থেকে যোগ করা চিনি এক নয়। এই দুইয়ের প্রভাব শরীরের উপর সম্পূর্ণ আলাদা।

ডা. সেঠির ব্যাখ্যায়, গোটা ফলের মধ্যে শুধু চিনি নয়, থাকে ফাইবার, জল ও নানা ধরনের পলিফেনল। এই উপাদানগুলি একসঙ্গে কাজ করে শরীরে চিনির শোষণ ধীর করে দেয়। ফলে রক্তে হঠাৎ করে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় না, ইনসুলিন স্পাইকও কম হয় এবং লিভারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। উল্টো দিকে, অ্যাডেড সুগার বা বাইরে থেকে যোগ করা চিনি খুব দ্রুত শরীরে শোষিত হয়, যা ইনসুলিনের ওঠানামা বাড়ায় এবং বিপাকক্রিয়ার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই দু’ক্ষেত্রেই চিনি থাকলেও, শরীরের ভিতরে তাদের কাজের ধরন একেবারেই আলাদা।

সুগার রিসেট বলতে যে স্বল্পমেয়াদি ডায়েট চ্যালেঞ্জ বোঝানো হয়, তার মূল উদ্দেশ্য হল খাবার থেকে অ্যাডেড সুগার বাদ দেওয়া। এই সময়ে ফল খাওয়া নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন। ডা. সেঠির মতে, ১৪ দিনের সুগার রিসেট চলাকালীন দিনে এক থেকে দু’বার গোটা ফল খাওয়া একেবারেই নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর। বরং খাবারের সঙ্গে ফল খেলে বা প্রোটিন ও ফ্যাটের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে খিদে ও মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আপেল, বেরি, লেবু জাতীয় ফল বা নাশপাতির মতো ফল গোটা অবস্থায় খেলে তা শরীরের জন্য উপকারী। তবে একই ফল যদি জুস করে বা শুকনো ফলের আকারে খাওয়া হয়, সেক্ষেত্রে তা অনেকটাই অ্যাডেড সুগারের মতো আচরণ করে। তাই ডা. সেঠির মতে, এখানে ফলের চেয়ে তার ফর্ম বা রূপটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সুগার রিসেটের সময় ফল রাখলে অনেক সুবিধা হয়। এতে হঠাৎ করে মিষ্টির তীব্র চাহিদা তৈরি হয় না, ডায়েট মেনে চলা সহজ হয় এবং অতিরিক্ত খেয়ে ফেলার ঝুঁকিও কমে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি বাস্তবসম্মত ও টেকসই হয়ে ওঠে। যদিও কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন গুরুতর ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিস বা সক্রিয় ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ফলের পরিমাণ কিছুটা কম রাখতে হতে পারে। তবুও ডা. সেঠির কথায়, গার-ফ্রি ডায়েট মানে ফল বাদ দেওয়া নয়। এর মানে হল অ্যাডেড সুগার বাদ দেওয়া।