আপনি কী করছেন, খাচ্ছেন, এমনকী কী অনুভব করছেন কোনও বিষয়টা সবটা মনে রেখে দেয় শুক্রাণু! হতবাক হলেও এটাই সত্যি। যখন বিজ্ঞানীরা মনে করছিলেন যে উত্তরাধিকার হিসেবে পূর্বপুরুষদের থেকে আমরা কী কী পাই না পাই জেনে গিয়েছেন, ঠিক তখনই এপিজেনেটিক্স যেন সবটা ঘেঁটে দিল। আর জিন হচ্ছে তার কারণ। 

এপিজেনেটিক্স হচ্ছে সেই এডিটর যে ঠিক করে যে কোন প্যারাগ্রাফ পড়া হবে, আর কোনটা বাদ দিলেও চলবে। আর এই এডিটর প্রত্যেকের ক্ষেত্রে বদলে বদলে যায় তাঁর জীবনযাপনের উপর ভিত্তি করে। এছাড়াও, আপনি আজ যা খাচ্ছেন, ভাবছেন যা হবে, আমার হবে। না। ব্যাপারটা সেটা নয়। আজ না ভেবেই যেটা খাচ্ছেন, পান করছেন বা অনুভব করছেন সেটার প্রভাব আপনার হবু সন্তানের জিনকে প্রভাবিত করতেই পারে, এবং করেও। 

এটা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা করা হয়েছিল ইঁদুরদের উপর। পুরুষ ইঁদুরদের হাইফ্যাট ডায়েট দেওয়া হতো। এরপর যখন সেই ইঁদুরগুলোর একদম সুস্থ স্বাভাবিক, হেলদি মেয়ে ইঁদুরদের সঙ্গে সঙ্গম করানোর পর যে বাচ্চাগুলো হয়েছে তাদের অনেকের মধ্যেই ডায়াবেটিস বা মোটা হওয়ার লক্ষণ বা ঝুঁকি দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ বাচ্চা ইঁদুরগুলোর বাবারা যা খেয়েছে সেটাই তাদের ডিএনএকে বদলে দিয়েছে। এই এপিজেনেটিক মার্কার আসলে শুক্রাণুর মধ্যে দিয়ে উত্তরপুরুষদের কাছে যায়। ফলে আপনি কি খাচ্ছেন, করছেন সবটা মনে রেখে দেয় আপনার শুক্রাণু। 

কেবল খাওয়া নয়, মানসিক চাপ, অবসাদও কিন্তু শুক্রাণু মনে রাখে। কোনও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার রাসায়নিক ছাপও শুক্রাণুর মধ্যে থেকে যায়। মানুষদের মধ্যেই গবেষণা করে দেখা গিয়েছে যে পুরুষরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন তাঁদের সন্তানদের মধ্যেও চাপে থাকার, ভয় ভয় থাকার প্রবণতা থাকে। জন্ম থেকেই তারা উদ্বেগে ভোগে। 

তবে যে খালি নেতিবাচক দিক আপনার শুক্রাণু মনে রাখে সেটা একেবারেই নয়। এটা ইতিবাচক ভাবেও কাজ করে। আপনি যদি নিয়মিত ব্যায়াম, শরীর চর্চা করেন, সঠিক খাবার খান, পর্যাপ্ত ঘুমান তাহলে আপনার শুক্রাণুর এই এপিজেনেটিক প্রোফাইলও ভাল হয়। উন্নত হয়। আপনি আসলে আপনার না হওয়া, ভবিষ্যতের সন্তানের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলছেন বর্তমানে জীবনযাপনের মাধ্যমে। 

এই বিষয়ে বলে রাখা ভাল, প্রতি ৭৪ দিন অন্তর শুক্রাণু রিনিউ হয়, অর্থাৎ আড়াই মাস সুস্থ জীবনযাপন করলে আপনার ভাল গুণ, ভাল দিক শুক্রাণুর মধ্যে দিয়ে দিচ্ছেন। নতুন জিন তো তৈরি হয় না। কিন্তু তাদের সঠিক নির্দেশ দেওয়া হয়।