খাওয়ার পর রক্তে শর্করার হঠাৎ বেড়ে যাওয়া অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের জন্য এটি আরও বিপজ্জনক। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু সহজ ও দৈনন্দিন অভ্যাস রক্তে শর্করার এই হঠাৎ বৃদ্ধিকে কমিয়ে দিতে পারে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই সব অভ্যাসের জন্য  আলাদা সময় বা বিশেষ পরিশ্রমেরও দরকার হয় না।

আজকাল অল্পবয়সেই শরীরে হানা দিচ্ছে একাধিক ক্রনিক রোগ। যার মধ্যে অন্যতম ডায়াবেটিস। গত কয়েক দশকে হু হু করে বেড়েছে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা। এক সময় মনে করা হত ডায়াবেটিস বয়স্কদের রোগ। কিন্তু বর্তমানে ৩০ পেরতে না পেরতেই ভোগাচ্ছে ব্লাড সুগার। এই রোগটি তখনই হানা দেয় যখন আমাদের শরীর কম ইনসুলিন তৈরি করতে শুরু করে অথবা সেই ইনসুলিন কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মাফিক ওষুধের সঙ্গে আরও বেশ কিছু বিষয়ে নজর রাখা জরুরি।

কয়েকটি সাধারণ অভ্যাস খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথম অভ্যাসটি হল খাওয়ার পরপরই ক্যাফ রেইজ করা, অর্থাৎ দাঁড়িয়ে পায়ের গোড়ালি বারবার উপরে তোলা ও নামানো। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সাধারণ ব্যায়াম রক্তে শর্করার পরিমাণ প্রায় ৫২% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। কারণ পেশি যখন সক্রিয় হয়, তখন তা রক্ত থেকে গ্লুকোজ টেনে নিয়ে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে ইনসুলিনের ওপর চাপ কমে এবং শরীর সহজে শর্করা ব্যবহার করতে পারে।

খাওয়ার পর খানিকক্ষণ হাঁটাও সুগার স্পাইক প্রায় ৩০% কমাতে পারে। কারণ শরীর সক্রিয় থাকলে কিংবা নড়াচড়া করলে হজমশক্তি বাড়ে এবং পেশিগুলিকে রক্তপ্রবাহ থেকে শর্করা টেনে তুলতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শরীরের গ্লুকোজ ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ায় এবং সার্বিক মেটাবলিজম উন্নত করে।

এছাড়া খাওয়ার আগে এক টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার খেলে রক্তে শর্করা ৩০% পর্যন্ত কমতে পারে, কারণ এটি কার্বোহাইড্রেট হজমের গতি কমিয়ে দেয়। এই ছোট ছোট অভ্যাসই রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য শক্তিশালী হাতিয়ার।