অনেকের দিনের শুরুই হয় এক কাপ গরম কফি দিয়ে। কেউ সকালে, কারওর কাজের ফাঁকে কফি না পেলে যেন ঠিক জমে না। তবে জানেন কি নিয়মিত কফি পান করলে মানুষের আয়ু বাড়তে পারে, সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য। তবে একটি ভুল অভ্যাস থাকলে এই উপকার পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে কফি পান করেন, তাঁদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও কিছু দীর্ঘমেয়াদি অসুখের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে ২ থেকে ৩ কাপ কফি শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। কফির মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরের কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
তবে শুধু কফি খেলেই হবে না, কীভাবে কফি খাচ্ছেন সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় বলা হয়েছে, কফির উপকার পেতে হলে একটি বড় ভুল এড়িয়ে চলতে হবে। আর সেটি হল অতিরিক্ত চিনি ও ভারী ক্রিম বা কৃত্রিম ফ্লেভার যোগ করা।
অনেকেই কফিতে বেশি চিনি, ফ্লেভারড সিরাপ বা প্যাকেটজাত ক্রিমার মেশান। এতে কফির স্বাভাবিক উপকারিতা অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। বেশি চিনি শরীরে ফ্যাট জমার ঝুঁকি বাড়ায়, রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। ফলে যে কফি আয়ু বাড়াতে সাহায্য করার কথা, সেটাই উল্টো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কফি খাওয়ার সময়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্ধ্যার পর বা রাতে কফি খাওয়া শরীরের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে। এতে ঘুম কম হয়, ক্লান্তি বাড়ে এবং ধীরে ধীরে শরীরের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে। তাই সকাল বা দুপুরের মধ্যেই কফি খাওয়া সবচেয়ে ভাল।
কফি খেতে চাইলে সবচেয়ে ভালো হল, কম বা একেবারেই চিনি ছাড়া কফি পান করা। অতিরিক্ত ক্রিম বা ফ্লেভার এড়িয়ে চলা। দিনে ২–৩ কাপের বেশি না খাওয়া। সন্ধের পর কফি না খাওয়া। সব মিলিয়ে বলা যায়, কফি নিজে থেকে ক্ষতিকর নয়। বরং সঠিকভাবে খেলে এটি শরীরের জন্য উপকারী এবং আয়ু বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে। তবে ছোট একটি ভুল অর্থাৎ অতিরিক্ত চিনি বা ভুল সময়ে কফি খাওয়া-এই সব উপকার নষ্ট করে দিতে পারে। তাই পরিমিতভাবে কফি পান করাই শ্রেয়।
