আজকাল ওয়েব ডেস্ক: রান্নায় হলুদ একটি অত্যন্ত অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। আর্য়ুবেদে হলুদকে ওষুধ হিসাবে গণ্য করা হয়। আবার হলুদ আমাদের দেশের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের নিয়মেও লাগে। সকালে উঠে খালি পেটে এক টুকরো কাঁচা হলুদ খেলে অনেক রকম রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই অনেকেই রোজ সকালে কিংবা ভাতের পাতে কাঁচা হলুদ খান। আবার উপকারের কথা ভেবে রান্নাতেও বেশি হলুদ ব্যবহার করেন অনেকে। কিন্তু জানেন কি এই হলুদই অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে! তাহলে ডায়েটে মাত্রাতিরিক্ত হলুদ রাখলে শরীরে কী প্রভাব পড়তে পারে, জেনে নেওয়া যাক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা হলুদ দিনে ৫ থেকে ১০ গ্রামের বেশি খাওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত খেলে শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে। একাধিক গবেষণায় এও বলা হয়েছে, দৈনিক ডায়েটে ৫০০-১০,০০০ মিলিগ্রাম হলুদই যথেষ্ট। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, যাঁদের পিত্তদোষ আছে, তাঁরা এই মশলা এড়িয়ে চলুন। কারণ হলুদ শরীরকে গরম করে তোলে।
হলুদ থেকে অনেকের অ্যালার্জি হয়। তাই বেশি হলুদ খেলে ত্বকে সংক্রমণ, পেট ব্যথা-সহ একাধিক সমস্যা হতে পারে। পেটের গণ্ডগোল, গা বমি ভাব, ডায়রিয়া-সহ একাধিক সমস্যার কারণও হতে পারে অতিরিক্ত হলুদ খাওয়া।
হলুদ ক্যানসার নিরাময়ে যেমন সাহায্য করে, ঠিক তেমনি অ্যান্টিক্যানসারের কিছু ওষুধ আছে যেগুলির হলুদ সেবনের ফলে কার্যকারিতা কমে যায়। হলুদ রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রবণতা কমায়। ফলে ২ সপ্তাহের মধ্যে যাঁরা অপারেশন করবেন, হলুদ গ্রহণের ফলে অপারেশনে তাঁদের অধিক রক্তপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই কারণে যাঁরা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাঁদেরও কাঁচা হলুদ খাওয়া উচিত নয়।
হলুদ সেবনে কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারে কিডনিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই আশঙ্কা আরও রয়েছে। হলুদ ওজন কমাতে কার্যকর। তাই ওজন বাড়াতে চাইলে ডায়েটে হলুদ কম রাখুন।
