বাঙালি সংস্কৃতিতে পান খাওয়ার চল বহু পুরনো। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে পুজোর আচার,পান ছাড়া যেন সবটাই অসম্পূর্ণ। তবে পান কেবল মুখশুদ্ধি হিসেবেই নয়, এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে অগণিত ওষধি গুণ। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, সঠিক নিয়মে পান ব্যবহার করলে সাধারণ অনেক শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

​১. হজমশক্তির উন্নতিতে: পানের সবচেয়ে বড় গুণ হল এটি হজমপ্রক্রিয়া বাড়ায়। পানের রস লালা গ্রন্থিকে সক্রিয় করে তোলে, যা খাবার ভাঙতে সাহায্য করে। খাওয়ার পর পান চিবিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়। এটি পাকস্থলীর পিএইচ মাত্রা বজায় রাখতেও সাহায্য করে।

​২. মাথাব্যথা নিরাময়ে: প্রচণ্ড মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যায় পান দারুণ কাজ করে। পানের শীতলীকরণ গুণ বা 'কুলিং এফেক্ট' রয়েছে। এক টুকরো টাটকা পান পাতার রস কপালে লাগিয়ে রাখলে বা কপালে আস্ত পাতা দিয়ে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যথার উপশম হয়।

​৩. শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-কাশিতে: শীতকালে বা ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশির সমস্যায় পান পাতা ওষুধের মতো কাজ করে। পান পাতায় সামান্য সর্ষের তেল মাখিয়ে তা হালকা গরম করে বুকের ওপর রাখলে কফ বা সর্দি জমে থাকার সমস্যা কমে। এছাড়া পানের রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে গলার খুসখুসে ভাব দূর হয়।

​৪. ক্ষত নিরাময় ও ব্যথানাশক: পানের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ রয়েছে। কোথাও কেটে গেলে পানের রস লাগিয়ে দিলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে এবং ক্ষত দ্রুত শুকায়। বাতের ব্যথায় বা পেশির ব্যথায় পান পাতা গরম করে সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়।

​৫. মুখের দুর্গন্ধ ও মাড়ির সুরক্ষায়: মুখের ভেতরের ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করতে পান পাতার জুড়ি মেলা ভার। পান চিবিয়ে খেলে দাঁতের মাড়ি শক্ত হয় এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। এটি ক্যাভিটি প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

​৬. মানসিক প্রশান্তি: অনেকের মতে, পান পাতা চিবিয়ে খেলে মানসিক ক্লান্তি কমে এবং মন চনমনে হয়। এটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে।

পানের অনেক গুণ থাকলেও মনে রাখা জরুরি যে, জর্দা, চুন বা তামাকের সঙ্গে পান খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। পানের আসল উপকারিতা পেতে হলে এটি কেবল সুপুরি বা এলাচের মতো প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে খাওয়া উচিত।