দুপুর গড়িয়েছে, মাঠে-ঘরে কাজে ব্যস্ত গ্রামবাসী। হঠাৎ বেজে উঠল সাইরেন। কিন্তু এ কোনও বিপদের সংকেত নয় — বরং স্বাস্থ্যসচেতনতা৷ সাইরেন শুনেই হাতের কাজ থামিয়ে সকলে এক গ্লাস জল তুলে নিচ্ছেন মুখে। মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার পাটন তালুকের ছোট্ট গ্রাম মান্যাচিওয়াড়ি। এই গ্রামের অভিনব ব্যবস্থাই এখন সারা দেশের চর্চার বিষয়।
গরমকালে কাজের চাপে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা জল না খেয়ে কাটিয়ে দেন। এর ফলে ডিহাইড্রেশন, ক্লান্তি, অসুস্থতা দেখা যায়। এই সমস্যার সহজ অথচ কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করেছে মান্যাচিওয়াড়ি।
নির্দিষ্ট সময় অন্তর বেজে ওঠা সাইরেনই গ্রামবাসীর জল-পানের ‘অ্যালার্ম’। শুধু তা-ই নয়, গ্রামে রয়েছে ঠান্ডা জল সরবরাহের ব্যবস্থা। এনএফসি কার্ড ছোঁয়ালেই মেলে শীতল পানীয় জল।
শুধু জল খাওয়ার জন্য সাইরেন বাজানো নয়, ‘সৌর গ্রাম যোজনা’র অধীনে এটিই মহারাষ্ট্রের প্রথম সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুৎ-চালিত গ্রাম। প্রায় ১০২টি ছাদ-সৌর প্যানেল থেকে গ্রামের শতভাগ বিদ্যুৎ-চাহিদা মেটে। রাস্তার আলো, জলের পাম্প, সিসিটিভি, স্কুল-চত্বরের আলো সবই চলে সূর্যের শক্তিতে। প্রতিটি পরিবারের বিদ্যুৎ বিল কার্যত শূন্য।
২০০১ সালে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই গ্রাম জিতেছে ৭৬টি পুরস্কার। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিকাশি, নিরবচ্ছিন্ন জল সরবরাহ, উন্নয়নের প্রায় প্রতিটি মাপকাঠিতেই এগিয়ে এই গ্রাম। দেশের নানা প্রান্ত থেকে পঞ্চায়েত-প্রতিনিধিরা আসেন এই মডেল স্বচক্ষে দেখতে।















