আজকাল ওয়েবডেস্ক: বর্তমান দ্রুতগতির যুগে প্রায় সকলেই শান্তি ও প্রশান্তি খোঁজে রয়েছেন। কিন্তু শব্দের দুনিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যেন সোনার পাথর-বাটি। রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি, লাউডস্পিকারের ব্যবহার পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলেছে। প্রায়শই, মানুষ শান্তির খোঁজে জীবন উপভোগ করার জন্য শহর থেকে গ্রামে চলে যান।

এমন স্থান কখনও জানেন যা এতই শান্ত যে, আপনি নিজের হৃদস্পন্দন, রক্ত ​​প্রবাহ এবং এমনকি আপনার হাড়ের নড়াচড়া শুনতে পান? এটি ধাঁধা এবং রহস্যে ভরা রূপকথার গল্পের মতো শোনাচ্ছে, তবে এমনই একটি জায়গা এই বিশ্বে রয়েছে। যা বিশ্বের সবচেয়ে 'শান্ত ঘর' হিসাবে পরিচিত। এই প্রতিবেদনে সেই অদ্ভূত ঘর সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

মাইক্রোসফটের চেম্বারকে বিশ্বের সবচেয়ে শান্ত ঘরঅ্যানিকোইক চেম্বার
বিশ্বের সবচেয়ে শান্ত ঘর, যাকে অ্যানিকোইক চেম্বার বলা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের রেডমন্ডে অবস্থিত মাইক্রোসফটের সদর দপ্তরে রয়েছে এই অ্যানিকোইক চেম্বার। ২০১৫ সালের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুসারে, এই কক্ষের শব্দের মাত্রা -২০.৩৫ ডেসিবেল। ঘরটি তৈরি করতে দুই বছর সময় লেগেছিল। 

তথ্যসূত্র হিসেবে, একটি শান্ত কক্ষে সাধারণত প্রায় ৩০ ডেসিবেল শব্দ পাওয়া যায়। রাতে মৃদু ফিসফিস করার শব্দই প্রায় ২০ ডেসিবেল।

সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদন (২০১৮) অনুসারে, খুব কম লোকই আছেন যারা অ্যানিকোইক চেম্বারে এক ঘন্টার বেশি থাকতে পেরেছেন। এই ঘরে একজন ব্যক্তি খুব দ্রুত নিজের হৃদস্পন্দন শুনতে পান এবং কিছুক্ষণ পরে, তারা তাদের রক্ত ​​সঞ্চালনও শুনতে পান। এমনকী শষোনা যায় মানব শরীরের হাড়ের মর্মর শব্দও!

চেম্বারে শব্দ শোষণ করতে কোন উপকরণ ব্যবহার করা হয়?
মাইক্রোসফটের অ্যানিকোইক চেম্বার মানুষের কানের চেয়েও বেশি নীরব। ঘরটি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। দেওয়াল, ছাদ এবং মেঝে এমন আকৃতি দিয়ে আবৃত যা দেখতে বিশেষভাবে তৈরি শব্দ-শোষণকারী তন্তু এবং ফেনা দিয়ে তৈরি পিরামিডের মতো।

আরও পড়ুন- বুড়ো আঙুল ছাড়াই নিয়মিত 'হাতের কাজ' করে দেখালেন যুবক!  ভাইরাল তার 'সেই কীর্তির' ভিডিও!