আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাল্টা আঘাত হানতে মরিয়া ইরান। ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ৪৪তম পর্যায়টি শুরু করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পশ্চিম এশিয়ার কোনও এক অজ্ঞাত স্থান থেকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর উদ্দেশ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই পশ্চিম এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। উপসারগীয় অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে, এ দিনের এই ঘটনাটি চলমান সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির আরেকটি লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর লক্ষ্যবস্তু সম্ভবত ছিল পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, জর্ডন এবং ইজরায়েলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নাম রয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করার পরপরই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অংশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করে তোলা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজরদারি শুরু করে।
ইরান বলছে, তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে:
ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল-মার্কিন যুদ্ধ ১৪তম দিনে পড়েছে। এর মধ্যেই ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, তাদের নিজস্ব ঘাঁটিগুলোর ওপর যদি কোনও হামলা চালানো হয়, তবে তারা এই অঞ্চলের জ্বালানি পরিকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় অপারেশনাল কমান্ড- 'খাতাম আল-আম্বিয়া'-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো কিংবা বন্দরগুলোর ওপর যদি কোনও আঘাত হানা হয়, তবে তারা এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস শিল্পকে "পুড়িয়ে ছারখার" করে দেবে।
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, আমেরিকা এই যুদ্ধ শুরু করার জন্য অনুতপ্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের লড়াই চালিয়েই যাবে। দ্রুত বিজয় অর্জনের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে লারিজানি বলেছেন, যুদ্ধ শুরু করাটা হয়তো সহজ, কিন্তু মাত্র কয়েকটি টুইট করেই কোনও যুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই পদক্ষেপকে - "মারাত্মক ভুল হিসাব" হিসেবে অভিহিত করেছেন, ওয়াশিংটন ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের লড়াই চালিয়েই যাবে।
