পশ্চিম এশিয়ায় চলতি ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়। এই পরিস্থিতিতে ঘরে রান্নার জ্বালানি সংকট সামাল দিতে কেন্দ্র সরকার সাময়িকভাবে আবার কেরোসিন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। একই সঙ্গে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিকে এক মাসের জন্য বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কয়লা, বায়োমাস ও আরডিএফ পেলেট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
2
10
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে নিয়মিত এক লক্ষ কিলোলিটার কেরোসিনের কোটার পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪৮ হাজার কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করেছে। এই কেরোসিন মূলত গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহার করার জন্য দেওয়া হচ্ছে।
3
10
ভারত সরকার ২০১২ সালে একটি বড় উদ্যোগ নেয়, যার লক্ষ্য ছিল রান্নার জ্বালানি হিসেবে কেরোসিনকে ধীরে ধীরে বাদ দিয়ে এলপিজি ব্যবহার বাড়ানো। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে কোটি কোটি পরিবারকে এলপিজি সংযোগ দেওয়া হয়, যাতে কয়লা, কাঠ বা কেরোসিনের মতো দূষণকারী জ্বালানির ব্যবহার কমে। কিন্তু বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সেই নীতিতে সাময়িক পরিবর্তন আনতে হয়েছে।
4
10
জ্বালানি সরবরাহে এই চাপের মূল কারণ হলো পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই ভারতের আমদানি করা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আসে। ভারতের মোট ৫.৮ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ, প্রায় ৫৫ শতাংশ রান্নার গ্যাস এবং প্রায় ৩০ শতাংশ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথেই দেশে পৌঁছাত।
5
10
এই পরিস্থিতিতে তেল সংস্থাগুলি গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এলপিজি সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাজারে এলপিজি রিফিল নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং অনেক জায়গায় মানুষ অতিরিক্ত বুকিং করতে শুরু করেন।
6
10
চাহিদা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গ্রামীণ গ্রাহকদের জন্য এলপিজি রিফিল বুকিংয়ের সময়সীমা ২৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৪৫ দিন করেছে। এর আগে সারা দেশের জন্য ২১ দিনের সীমা করা হয়েছিল।
7
10
এই সংকটের মধ্যে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি লোকসভায় জানান, দেশে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের কোনও ঘাটতি নেই। তাঁর কথায়, “দেশজুড়ে জ্বালানির সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে এবং খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত মজুত আছে।”
8
10
তিনি আরও জানান, এলপিজি উৎপাদন প্রায় ২৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবং গৃহস্থালির রান্নার জন্য গ্যাস সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে প্রায় ৩৩ কোটি পরিবারের রান্নার গ্যাসের চাহিদা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
9
10
ভারত প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে, কানাডা, আলজেরিয়া ও রাশিয়ার মতো নতুন উৎস থেকেও গ্যাস সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
10
10
সরকারের মতে, কিছু জায়গায় এলপিজি বুকিংয়ের হঠাৎ বৃদ্ধি আসলে সরবরাহের ঘাটতির কারণে নয়, বরং মানুষের উদ্বেগ ও আতঙ্কের ফল। তাই জ্বালানি বণ্টন স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।