আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই আরও একটি মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস হল। পশ্চিম ইরাকে অন্তত পাঁচজন ক্রু সদস্য-সহ একটি সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস হয়েছে। জানা গিয়েছে, মার্কিন বাহিনী সেখানে উদ্ধার অভিযানের জন্য গিয়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরাকে সক্রিয় একটি ইরান-মদতপুষ্ট ইসলামিক গোষ্ঠী মার্কিন ওই বিমানটি ধ্বংসের দায় স্বীকার করেছে।

এর আগে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান যে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় তাতে অন্তত পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। তবে এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।

ভেঙে পড়া বিমানটি 'কেসি-১৩৫'  ট্যাঙ্কার। এই বিমান দীর্ঘপাল্লার অভিযানে যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য বিমানে জ্বালানি সরবরাহের কাজে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাধারণত এই ট্যাঙ্কার বিমানগুলো তিনজন ক্রু সদস্য নিয়ে পরিচালিত হয়, কিন্তু এই ফ্লাইটে অন্তত পাঁচজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত ক্রু সদস্যরা ঠিক কী দায়িত্ব পালন করছিলেন, তা জানা যায়নি।

এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, দু'টি কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার বিমান এই ঘটনায় জড়িত ছিল। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র অংশ হিসেবে এই দু'টি বিমান দূরপাল্লার মিশনে যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহ করছিল। মিশন চলাকালীন, একটি কেসি-১৩৫ বিমান নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। তবে অন্যটি পশ্চিম ইরাকে ভেঙে পড়েছিল। কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে দুর্ঘটনাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'বন্ধু'রাষ্ট্রের আকাশসীমায় ঘটেছে।

সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, "পরিস্থিতি অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। আমরা অনুরোধ করছি, বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্মীদের পরিবারের কাছে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার স্বার্থে আপনারা আমাদের কিছুটা সময় দিন ও ধৈর্য ধরুন।"

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট - 'দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক'—মার্কিন কেসি-১৩৫ জ্বালানি ট্যাঙ্কার বিমানটি গুলি করে ধ্বংস করার দায় স্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, "আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমা রক্ষার স্বার্থেই" এই পদক্ষেপকরা হয়েছে।

১৯৫০ -এর দশক থেকে ১৯৬০-এর দশকের শুরুর দিকে বোয়িং কোম্পানি নির্মিত কেসি-১৩৫ বিমানটি দীর্ঘকাল ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বহরের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিমানটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মার্কিন বিমানগুলোকে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য মাটিতে অবতরণ না করেই তাদের অভিযানের সময়সীমা দীর্ঘায়িত করার সক্ষমতা প্রদান করে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যমতে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় বিধ্বস্ত হয়েছে বলে প্রকাশ্যে জানা যাওয়া চতুর্থ বিমানটি হল এই ট্যাঙ্কারটি। গত সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভুলবশত কুয়েতি মিত্রবাহিনীর গুলিতে ধ্বংস হয়েছিল।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, 'এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল' যুদ্ধবিমানগুলোতে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্যই নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন এবং উদ্ধারের পর তাঁদের শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল ছিল।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত যুদ্ধে সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কুয়েতের একটি অসামরিক বন্দরের অপারেশনস সেন্টারে একটি ইরানি ড্রোন আঘাত হানলে ছয়জন সেনা সদস্য প্রাণ হারান। অন্যদিকে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে এক হামলায় আহত হওয়ার পর সপ্তম সেনা সদস্যটি মারা যান।

পেন্টাগন এই সপ্তাহের শুরুর দিকে জানিয়েছে, এই সংঘাতে প্রায় ১৪০ জন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে আটজনের আঘাত গুরুতর।