আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা মোজতবা খামেনেইয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, তিনি বিশ্বাস করেন মোজতবা এখনও জীবিত আছেন, তবে সম্ভবত গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।

ফক্স নিউজ রেডিও-কে দেওয়া সাক্ষাতে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি বিশ্বাস করেন যে মোজতবা (যিনি মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় তাঁর বাবা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর দেশের নেতৃত্বের হাল ধরেছিলেন) এখনও জীবিত আছেন? জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় তিনি সম্ভবত জীবিতই আছেন।”

‘ব্রায়ান কিলমিড শো’-তে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “আমার ধারণা তিনি (মোজতবা খামেনেই) গুরুতর আহত হয়েছেন, তবে আমার বিশ্বাস, তিনি সম্ভবত কোনও না কোনওভাবে এখনও জীবিতই আছেন—আপনারা তো জানেনই।”

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনেইকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। আর এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই নানা চর্চা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার স্বাস্থ্য এবং চলমান সংঘাতের এই সময়ে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে যে - গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে বিমান হামলায় মোজতবার বাবা নিহত হয়েছিলেন, সেই একই হামলায় মোজতবাও সম্ভবত গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে ইজরায়েল ও মার্কিন যৌথ হামলায় গুরুতরভাবে আহত হওয়ার পর ৫৬ বছর বয়সী ধর্মগুরু মোজতবা আলি খামেনেই বর্তমানে কোমায় আচ্ছন্ন এবং তিনি তাঁর অন্তত একটি পা হারিয়েছেন।

ওই সংবাদমাধ্যমটি যেসব সূত্র উদ্ধৃত করেছে, তারা দাবি করেছে যে খামেনেই “অন্তত একটি পা হারিয়েছেন এবং তাঁর পাকস্থলী কিংবা যকৃতেও (লিভার) গুরুতর আঘাত লেগেছে।” প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেহরানের ‘সিনা ইউনিভার্সিটি হসপিটাল’-এ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মোজতবার চিকিৎসা চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র ওই সংবাদপত্রকে জানিয়েছে, “মোজতবা আলি খামেনেই-এরএক বা দু'টি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। তাঁর যকৃৎ কিংবা পাকস্থলীও ফেটে গিয়েছে। দৃশ্যত তিনি এখন কোমায় আচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছেন।”

ইরানি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে, ওই হামলায় মোজতবা খামেনেই আহত হয়েছিলেন, তবে তিনি এখন নিরাপদেই আছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তেহরানের সাইপ্রাসে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন যে, ওই হামলায় মোজতবা আহত হয়েছিলেন, একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, ওই ভয়াবহ বোমাবর্ষণ থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়ায় মোজতবা অত্যন্ত ভাগ্যবান।

ইরানি কূটনীতিক আলিরেজা সালারিয়ান বলেন, “আমি শুনেছি যে মোজতবার পা, হাত এবং বাহুতে আঘাত লেগেছে। আমার ধারণা, আহত হওয়ার কারণেই তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।” ৫৬ বছর বয়সী এই ধর্মগুরু রবিবার তাঁর বাবার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর থেকে কেন জনসমক্ষে আসেননি কিংবা কোনও বিবৃতি দেননি - তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আলিরেজা সালারিয়ান আরও বলেছেন, “আমার মনে হয় না যে, (বর্তমান পরিস্থিতিতে) বক্তৃতা দেওয়ার মতো মানসিক অবস্থায় তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।”

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নেতৃত্ব ও ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকার বিষয়টি তুলে ধরার লক্ষ্যে এমন একটি বিবৃতি প্রচার করেছে, যাকে তারা খামেনেইয়ের ক্ষমতা গ্রহণের পর দেওয়া প্রথম বিবৃতি হিসেবে অভিহিত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এই বিবৃতিতে (যা খামেনেই নিজে পাঠ না করে একজন সংবাদ উপস্থাপকের মাধ্যমে পাঠ করিয়েছেন) মোজতবা আলি খামেনেই সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, এই সংঘাতে নিহতদের মৃত্যুর প্রতিশোধ ইরান অবশ্যই নেবে, পাশাপাশি তিনি এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও হুমকি দিয়েছেন। খামেনেই বলেন, “এই অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত সামরিক ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া উচিত, অন্যথায় সেগুলোর ওপর আক্রমণ চালানো হবে।” তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এই যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বা মাশুল ইরান অবশ্যই দাবি করবে এবং তাদের দাবি-দাওয়া পূরণ করা না হলে তারা শত্রুপক্ষের বৈদেশিক সম্পদ বা সম্পত্তিকে নিশানা করবে।

মোজতবার কথায়, “শত্রুপক্ষ আমাদের ওপর যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ আমরা তাদের কাছ থেকে আদায় করে নেব। শত্রুপক্ষ যদি ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে আমরা তাদের যে পরিমাণ সম্পদ বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা সঙ্গত মনে করব, ঠিক ততটাই বাজেয়াপ্ত করে নেব। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে আমরা সমমূল্যের সম্পদ বা সম্পত্তি ধ্বংস করে দেব।”

ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা যখন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই খামেনেই এই মন্তব্যগুলো করছেন। যদিও দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে খামেনেইকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।