আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা যাতে ভেস্তে না যায়, সেজন্য তৎপর ছিল আমেরিকা। চাঞ্চল্যকর দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর প্রতিবেদনে। জানা গিয়েছে, ইরানের শীর্ষ নেতাদের ওপর সম্ভাব্য ইজরায়েলি ড্রোন বা বিমান হামলা সম্পর্কে তেহরানকে সতর্ক করতে ইজরায়েল-সহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিকে বিশেষ 'অনুরোধ' জানিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। এমনই দাবি সংবাদমাধ্যমে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূলত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে ইজরায়েল টার্গেট করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল আমেরিকা। গত এপ্রিল মাস থেকে যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু হয়, এই দুই শীর্ষ নেতাকে হত্যার চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি আবার হাতের বাইরে চলে যেত পারে। ভেস্তে যেতে পারে শান্তি আলোচনাও, এমনই আশঙ্কায় ছিল আমেরিকা।
আমেরিকা যেখানে শান্তি চুক্তি চাইছিল, তখন ইজরায়েল প্রথম থেকেই এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে সন্দিহান ছিল। ইজরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, এর ফলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে এবং নিজেদের সামরিক শক্তি ফের বাড়িয়ে তুলবে।
'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাস থেকেই আরাগচি ও গালিবাফ ইজরায়েলের হিটলিস্টে ছিলেন, কিন্তু মার্কিন চাপে শেষমেশ তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এমনকি সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকের পর স্পিকার গালিবাফকে আবারও তাঁর ওপর হামলার ছক কষে ইজরায়েল। ইরানি গোয়েন্দারা জানতে পারে যে, গালিবাফের বিমানকে লক্ষ্য করে দু'টি ইজরায়েলি ফাইটার জেট ইরানে প্রবেশ করে। এরপর বিমানটি দ্রুত পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী মাশহাদ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। গালিবাফ এরপর সড়কপথে তেহরান পৌঁছান।
তবে এই লাগাতার গুপ্তহত্যার হুমকি সত্ত্বেও শান্তি আলোচনা থেমে থাকেনি। মে মাসেও আরাগচি এবং গালিবাফ কাতার ও সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনার জন্য সফরে যান। এমনকি মার্কিন প্রশাসনের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
আমেরিকা ও ইরানের শান্তিচুক্তিকে ভাল চোখে দেখেনি ইজরায়েল। জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া নিয়ে যে প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে, যাকে ইজরায়েল 'বিপর্যয়' বলেই মনে করছে বলে খবর রাজনৈতিক মহলে।















