আজকাল ওয়েবডেস্ক: রণক্ষেত্রে শত্রুসেনার ফন্দি কী, তা বুঝতে আর শুধু মানুষের বুদ্ধিতে ভরসা রাখছে না আমেরিকা। এবার সেনাপতিদের চাল বাতলে দিতে এগিয়ে আসছে কৃত্রিম মেধা বা ‘এআই’। মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘পালান্টিয়ার’ এবং প্রযুক্তি সংস্থা ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর হাত ধরে যুদ্ধের ময়দানে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।
সহজ কথায়, পালান্টিয়ার এমন একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছে যেখানে ‘ক্লদ’ নামের একটি বুদ্ধিমান চ্যাটবট কাজ করবে। সাধারণ মানুষ যেমন চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন, সেনার গোয়েন্দারাও তেমনই এই চ্যাটবটকে প্রশ্ন করতে পারবেন। ধরুন, কোথাও শত্রুসেনার ভিড় দেখা গেল। গোয়েন্দারা ক্লদ-কে জিজ্ঞেস করতে পারেন, “ওখানে কারা আছে?” চ্যাটবট নিমেষের মধ্যে তথ্য ঘেঁটে বলে দেবে, ওটা কি সাধারণ টহলদারি দল নাকি বড় হামলার জন্য কোনও বাহিনী।
আগে শত্রু দমনে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা চলত। এখন এই এআই সিস্টেম নিজেই কয়েকটা বিকল্প বলে দেবে। যেমন- ওই এলাকায় আকাশপথে হানা দেওয়া হবে, নাকি দূরপাল্লার কামান দেগে শত্রুকে ওড়ানো হবে। অফিসাররা স্রেফ একটা অপশন বেছে নিলেই কেল্লাফতে! এমনকী কোন পথে সেনারা এগোলে বিপদ কম হবে, তা-ও ছকে দেবে এই যন্ত্র-মস্তিষ্ক।
তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে টানাপোড়েনও কম নয়। অ্যানথ্রোপিক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের এই মেধা যেন সাধারণ মানুষের ওপর নজরদারি বা নিজে থেকে মানুষ মারার কাজে ব্যবহার না হয়। এই নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাদের আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে।
আমেরিকার বিখ্যাত ‘প্রজেক্ট মেভেন’-এর হাত ধরে এই প্রযুক্তি এখন মার্কিন সেনার অন্দরমহলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ২০২৫ সালের এক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলা নিয়ে নিঁখুত গোয়েন্দা রিপোর্ট তৈরি করতেও ওস্তাদ এই ‘ক্লদ’। যুদ্ধের দুনিয়ায় রক্তমাংসের যোদ্ধার পাশে এবার কি তবে যন্ত্রের জয়জয়কার? উত্তর খুঁজছে গোটা বিশ্ব।
