আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি কি সত্যিই ব্রিটিশ রাজপরিবারের সবচেয়ে বিতর্কিত সম্পদ ‘কোহিনূর’ হীরা ফেরত দেওয়ার জন্য সওয়াল করবেন? বুধবার শহরটিতে নাইন-ইলেভেন হামলার স্মৃতিসৌধে রাজা চার্লস ও রানি কামিলার সাথে সাক্ষাতের প্রাক্কালে মেয়রের এমন মন্তব্য নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা। চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে আসা রাজদম্পতি যখন লোয়ার ম্যানহাটনে ৯/১১ মেমোরিয়ালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছিলেন, ঠিক সেই আবহে ভারতের দীর্ঘদিনের দাবিটি পুনরায় সামনে নিয়ে আসলেন মামদানি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মেয়র বেশ স্পষ্টভাবেই বলেন যে, যদি ব্যক্তিগতভাবে রাজার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হতো, তবে তিনি অবশ্যই কোহিনূর হীরাটি ভারতে ফেরত দেওয়ার জন্য রাজাকে উৎসাহিত করতেন। সপ্তদশ শতাব্দীতে ভারতে খনি থেকে উত্তোলিত এই হীরাটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম কাটা হীরা। ১৮৪৯ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের দশ বছর বয়সী শিখ রাজপুত্র দলীপ সিংকে দিয়ে জোর করে এই হীরাটি হস্তান্তরের চুক্তি করিয়ে নিয়েছিল। সেই থেকে ভারতের সম্পদটি ব্রিটেনের রাজমুকুটের শোভা বাড়ালেও, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই ভারত সরকার বারবার এটি ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালেও এই দাবি তোলা হয়েছিল। তবে বর্তমানে এটি টাওয়ার অফ লন্ডনে সংরক্ষিত রয়েছে এবং একে 'অমূল্য' বলে বিবেচনা করা হয়।
আশ্চর্যের বিষয় হল, গত তিন দিনে দুবার গ্রাউন্ড জিরোতে রাজদম্পতির সফরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও মামদানি শুরুতে তাদের নাম উচ্চারণ পর্যন্ত করেননি। তিনি জানিয়েছিলেন যে তার প্রধান লক্ষ্য ৩০০০-এর বেশি নিহত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। তবে শেষ পর্যন্ত কোহিনূর প্রসঙ্গ তুলে তিনি আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক স্পর্শকাতর জায়গায় নাড়া দিয়েছেন। এই বিষয়ে বাকিংহাম প্যালেস বা রাজপরিবারের মুখপাত্ররা কোনো সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি, কারণ সাংবিধানিকভাবে রাজপরিবারের সদস্যরা রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকতে বাধ্য।
এদিকে সফরের মধ্যেই নতুন এক বিতর্ক তৈরি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন যে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র না পায় সে বিষয়ে রাজা চার্লস তার সাথে পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে প্যালেস। তারা দ্রুত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, রাজা তার সরকারের দীর্ঘকালীন পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ নীতির বিষয়ে সচেতন। যদিও স্বয়ং রাজা চার্লস ইরান বা যুদ্ধ নিয়ে নিজের মুখে কোনও মন্তব্য করেননি। সব মিলিয়ে মেয়রের কোহিনূর প্রসঙ্গ এবং ট্রাম্পের দাবি— দুইয়ে মিলে রাজদম্পতির মার্কিন সফর এখন সংবাদের শিরোনামে।















