আজকাল ওয়েবসাইট: দু'নৌকায় একসঙ্গে পা দিয়ে চলতে চাইছে পাকিস্তান। একদিকে আমেরিকা-ইরানের সংঘাতে মধ্যস্থতায় তারা ব্যস্ত, আবার অন্যদিকে, ইরানকে রাশিয়া চীন সহ অন্যান্য নানা দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য ছ’টি নতুন স্থলপথ চালু করার অনুমোদন দিচ্ছে।
ফলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দু’নৌকায় পা দিয়ে চলার অভিযোগ উঠছে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসলামাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ছ’টি স্থলপথ অনুমোদন করেছে।
এই স্থলপথগুলির মাধ্যমে ইরান সহজেই রাশিয়া, চীন সহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারবে। হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত সমস্যাগুলি এড়ানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক জানাচ্ছেন, ‘ইরানের ওপরে যে অর্থনৈতিক চাপ আমেরিকা তৈরি করতে চেয়েছিল, ‘স্থলপথ তৈরি হলে সেই চাপ অনেক শিথিল হয়ে পড়বে। পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত ইরানকে যাবতীয় অবরোধ এড়িয়ে তেল সংক্রান্ত বাণিজ্য চালিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’
আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক ডেরেক জে গ্রসম্যান আমেরিকার উদ্দেশ্যে খোলাখুলি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানান, ‘আমেরিকা আবারও সমস্যায় পড়ল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পাকিস্তান আসলে ইরানের সুবিধার জন্য স্থলপথে বাণিজ্যের পথ খুলে দিচ্ছে। এর ফলে জলপথে আর ইরানের উপরে অর্থনৈতিক চাপ সেভাবে সৃষ্টি করা যাবে না।’
এদিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে, ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার মন্তব্য করেছিলেন, পাকিস্তানের ওপর একেবারেই ভরসা করা যায় না।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ির কথায়, ‘পাকিস্তান ভাল বন্ধু হলেও, নিরপেক্ষ নয়। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তারা উপযুক্ত নয়।’
বর্তমান সংঘাতের পরিস্থিতিতে আমেরিকা ইরানের উপরে অর্থনৈতিক ভাবে চাপ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। আমেরিকা ইরানের একাধিক বন্দর অবরুদ্ধ করে রেখে দিয়েছে। যার মধ্যে হরমুজ প্রণালী উল্লেখযোগ্য।
এখান থেকে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০–২১ শতাংশ সরবরাহ হয়। প্রতিদিন আনুমানিক ১৭–২১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এখান থেকে পরিবাহিত হয়। ইরানের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ ভাগই এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু অবরোধের ফলে জলপথে ইরান বাণিজ্য করতে পারছে না। আমেরিকার ধারণা, অবরোধের ফলে ধীরে ধীরে অর্থনীতির মেরুদন্ড ভেঙে গেলে ইরান বাধ্য হবে আমেরিকার সামনে মাথা নত করতে।
পাকিস্তানের এই স্থলপথে বাণিজ্যের প্রস্তাবের ফলে আমেরিকার সেই কৌশল একপ্রকার ভেস্তে যেতে বসেছে। একটি প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের বন্দরগুলোতে প্রায় তিন হাজার ইরানমুখী কার্গো কনটেনার আটকে আছে। স্থলপথ চালু হয়ে গেলে আটকে থাকার কোনও সমস্যাই থাকবে না।















