আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পশ্চিম এশিয়ার জটিল রাজনীতিতে নতুন মোড় এসেছে। বিশেষ করে হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা বজায় থাকলেও, আলোচনার পথ খোলা রাখার চেষ্টা চলছে দুই পক্ষেরই। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান আবারও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ‘মধ্যস্থ’ হিসেবে সামনে এসেছে, যেখানে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি একইসঙ্গে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জের মুখে।


পাকিস্তানের এই অবস্থান একদিকে আন্তর্জাতিক মহলে তার গুরুত্ব বাড়াতে পারে, অন্যদিকে মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগও এনে দিতে পারে। বিশ্বের একমাত্র ইসলামিক পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের এই ভূমিকা যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনই ঝুঁকিপূর্ণ। এই কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে রয়েছে ২০২৫ সালে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি, যার আওতায় হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা ও যুদ্ধবিমান সৌদি প্রতিরক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে।


যদিও সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে সংঘাতে সরাসরি জড়ায়নি, তবুও তাদের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে রিয়াদ এখন একদিকে প্রতিরক্ষা জোরদার করছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক দরজাও খোলা রাখছে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় রিয়াদ-তেহরান সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়াও এই ভারসাম্য নীতিরই অংশ। কারণ ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ও সামরিক সক্ষমতা গালফ অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই বিবেচিত হয়।


এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেই ৯ এপ্রিল সৌদি বিদেশমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে ফোনালাপ হয়। এই আলোচনাই পরবর্তীতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের জন্য কূটনৈতিক মঞ্চ তৈরি করে দেয়, যেখানে ইসলামাবাদ নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পায়।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকেও পাকিস্তানের এই ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের কূটনৈতিক দক্ষতা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। পাকিস্তান কৌশলগতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছে ট্রাম্পের কৃতিত্ব বাড়িয়ে দেখানো, এমনকি তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য বলে দাবি করাও।
তবে সমালোচকদের মতে, এই কূটনৈতিক ‘তোষামোদ’ দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অতীতেও বহুবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের কৌশলের ফাঁদে পা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে মার্কিন রাজনীতির অভ্যন্তরেও বিভাজন বাড়ছে। 

 

&t=123s
সব মিলিয়ে, হরমুজ সঙ্কট ও ইরান-মার্কিন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান যে কূটনৈতিক অবস্থানে দাঁড়িয়ে, তা একদিকে সম্ভাবনার দরজা খুলছে, অন্যদিকে বড় ধরনের কৌশলগত ঝুঁকিও তৈরি করছে। আগামী দিনে এই ‘মধ্যস্থ’ ভূমিকাই নির্ধারণ করবে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক অবস্থানের ভবিষ্যৎ।