আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে পৌঁছল ইরানের ৭০ জনের প্রতিনিধিদল। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল শুক্রবার ইসলামাবাদে পৌঁছায়।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ‘মহম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শান্তি আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।’

তবে একই সঙ্গে ইরানের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, ওয়াশিংটন তেহরানের ‘শর্ত’ মেনে নিলেই কেবল আলোচনা এগোবে। ইরানের এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন শীর্ষস্থানীয় একাধিক রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।

তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিলের সচিব আলি আকবর আহমদি, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের গভর্নর আব্দুল নাসের হেম্মতি, এবং প্রাক্তন আইআরজিসি কমান্ডার মহম্মদ বাঘের জোলঘাদের।

তেহরান একাধিকবার জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক ভাবে আলোচনা শুরু করার আগে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত ইস্যু, যা ইরানের কঠোর অবস্থানকেই প্রতিফলিত করে।

এদিকে, পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকও নিশ্চিত করেছে যে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। পাকিস্তান আশাবাদী, দুই পক্ষই গঠনমূলকভাবে আলোচনায় অংশ নেবে।

অন্যদিকে, গালিবাফ ও আরাঘচি জানিয়েছেন, যে কোনও যুদ্ধবিরতিতে লেবানন এবং হিজবুল্লাকে চুক্তির আওতায় আনতে হবে। কোনওভাবেই লেবাননের ওপর হামলা চালানো যাবে না।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার সকালে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা প্রথম দফার বৈঠকে বসবেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার এই বৈঠকে অংশ নেবেন।

পাকিস্তানে রওনা হওয়ার আগে ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদী। আমার মনে হয় ফলাফল ইতিবাচক হবে।’ অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাগের গালিবাফ।

ধারণা করা হচ্ছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ, দেশে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করা, সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার মতো প্রস্তাব দেওয়া হবে।

তবে লেবাননের অবস্থান নিয়ে এখনও টানাপোড়েন কাটেনি। ইরানের মতে, হিজবুল্লাহর ওপর যে কোনও হামলাই যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। পাকিস্তানও ইরানের অবস্থানকে সমর্থন করছে বলে জানা গিয়েছে।

কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মতে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়ে না। শুক্রবার পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু না করে, তবে যুদ্ধবিরতি আর থাকবে না।

একই সঙ্গে ট্রাম্পও সতর্ক করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর যেন ইরানের তরফে যেন কোনও ধরনের টোল আরোপ না করা হয়।